অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দূর্নীতির অভিযোগে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার পর, করাচীতে এক বিক্ষোভের সময়, সমবেত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের সমর্থকরা স্লোগান দিচ্ছেন, ২১ অক্টোবর ২০২২।
পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার পর, করাচীতে এক বিক্ষোভের সময়, সমবেত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের সমর্থকরা স্লোগান দিচ্ছেন, ২১ অক্টোবর ২০২২।

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন শুক্রবার দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কোন নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এমন ঘোষণার ফলে খানের সমর্থকরা দেশব্যাপী প্রতিবাদ শুরু করে। আর, এর ফলে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাবেক ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে, ঐ আদেশে বলা হয় যে, তিনি পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনে (ইসিপি) নিজের সম্পদ নিয়ে “মিথ্যা তথ্য ও ভুল ঘোষণা দিয়েছেন”।

ইসিপি বলেছে খান , “এই আদেশের ফলে আর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ [সংসদের নিম্নকক্ষ] এর সদস্য থাকছেন না এবং তার আসনটি যথাবিধি শূন্য হয়ে গিয়েছে।”

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের নেতারা শুক্রবারের এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। তারা অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের জোট সরকারের চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন নিজেদের ক্ষমতার পরিধি লঙ্ঘন করেছে।

পাকিস্তানের বড় শহরগুলোতে খানের সমর্থকরা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো অবরোধ করেন এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগটির কেন্দ্রে রয়েছে, তোশাখানা নামে পরিচিতি সরকারি দপ্তর। রাষ্ট্রীয় সফরকালে পাকিস্তানি নেতাদের পাওয়া উপহারগুলো তোশাখানায় রাখা হয় এবং প্রদর্শন করা হয়।

খানের পাওয়া ও নিজের কাছে রেখে দেওয়া বেশ কয়েকটি দামি উপহার তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি মূল্যবান হাতঘড়িও রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি এই আয়গুলো ইসিপিকে জানাননি। ব্যাপক জনপ্রিয় এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলছেন, প্রশ্নের মুখে পড়া এই আয়গুলো তিনি তার আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করেছেন এবং কোন অন্যায় কাজ করার কথা তিনি অস্বীকার করেছেন।

যে ব্যক্তিরা উপহার পান, তারা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মূল্যের উপহারগুলো, ৫০ শতাংশ মূল্য পরিশোধ করে, আইনসম্মতভাবে তা নিজেদের কাছে রাখতে পারেন। ইমরান খান ক্ষমতায় থাকাকালে, এই ছাড়ের পরিমাণ ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছিলেন।

This item is part of
XS
SM
MD
LG