কয়েকমাসের মধ্যে প্রথমবারের মত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী শুক্রবার টেলিফোনে আলাপ করেছেন। আলোচনাটি এমন সময়ে হল, যখন রুশ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে ইচ্ছা রয়েছে বলে নতুন করে ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং যখন ইউক্রেনের বাহিনী ক্রমশ দক্ষিণাঞ্চলে রুশ অধিকৃত খেরসন বন্দরনগরীর আরও কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয় দেশই, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ও রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্গে শোইগু’র মধ্যকার ফোনালাপের প্রতিলিপি প্রকাশ করেছে। দুইদেশই জানিয়েছে যে, আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ।
পেন্টাগনের প্রকাশিত প্রতিলিপি অনুযায়ী, অস্টিন “ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমগুলো উন্মুক্ত রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন”।
ক্রেমলিনের প্রকাশিত প্রতিলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দুই কর্মকর্তা “আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সমস্যা নিয়ে, বিশেষত ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করেন।”
শুক্রবারের ফোনালাপের আগে, অস্টিন ও শোইগু সর্বশেষ ১৩ মে আলোচনা করেছিলেন। সেসময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউক্রেনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সর্বসাম্প্রতিক এই আলোচনাটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হল, যখন আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, ক্রেমলিন এমন ইঙ্গিত প্রকাশে উন্মুখ যে তারা আলোচনার দ্বার খোলা রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও নেটোর কর্মকর্তারা বারবারই বলেছেন যে, পুতিনের জন্য দ্রুততম উপায়ে লড়াই অবসানের পথ হল, ইউক্রেন থেকে রুশ বাহিনীকে প্রত্যাহার করে নেওয়া। পুতিন তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন।
একইভাবে, পশ্চিমা কর্মকর্তারা এ-ও বলেছেন, যে কোন সমঝোতার শর্তে ইউক্রেনকে সম্মত হতে হবে। ইউক্রেন বর্তমানে রুশ অধিকৃত সকল এলাকা পুনর্দ্ধারের অঙ্গীকার করেছে, যার মধ্যে ক্রাইমিয়াও রয়েছে। রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রাইমিয়া দখল করে নিয়েছিল।
তবে, আপাতদৃষ্টিতে রাশিয়ার মনোভাব বদল সত্ত্বেও, গত মাসে অধিভুক্ত করা ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে তারা লাগাতারভাবে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
এছাড়া, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকিও, পুতিন ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত রাশিয়ার সাথে কোন আলোচনা নয় বলে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন শুক্রবার বলেন, এমন কোন আভাস পাওয়া যায়নি যে পুতিন অর্থবহ কোন কূটনীতিতে অংশগ্রহণ করতে চান।
ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনা-কে সাথে নিয়ে ব্লিংকেন বলেন, “সবকিছুই এমন ইঙ্গিত করে যে, অর্থবহ কোন কূটনীতিতে অংশগ্রহণ করা থেকে অনেক দূরে থেকে, প্রেসিডেন্ট পুতিন উল্টোপথে এগোনো অব্যাহত রেখেছেন।”