অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন চরম ডানপন্থী নেতা জিওর্জিয়া মেলোনি


রোমের কুইরিনাল প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সময় ইতালির নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী জিওর্জিয়া মেলোনির সাথে কথা বলছেন ইতালির প্রেসিডেন্ট সের্গিও মাতারেলা, ২২ অক্টোবর ২০২২।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিয়েছেন জিওর্জিয়া মেলোনি। তার রাজনৈতিক দলটি সাম্প্রতিক নির্বাচনে জয়লাভ করেছে।নব্য-ফ্যাসিবাদী ঘরানার সাথে এই দলের জন্ম সম্পর্ক রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে তিনিই ইতালির প্রথম চরম ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী। তার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীও হলেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট সের্গিও মাতারেলা, ৪৫ বছর বয়সী মেলোনিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করান। এর একদিন আগে প্রেসিডেন্ট মাতারেলা, মেলোনিকে সরকার গঠন করতে অনুরোধ করেন।

মেলোনি ২০১২ সালে তার ব্রাদার্স অফ ইতালি দলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তার দল, মাতেও সালভিনির ডানপন্থী লীগ পার্টি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির নেতৃত্বাধীন, রক্ষণশীল ফোরজা ইতালিয়া পার্টির সাথে জোট করে সরকার গঠন করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভোটারদের কাছে ঐ দুইটি দলের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শপথ পাঠ করে মেলোনি অঙ্গীকার করেন যে, তিনি ইতালির যুদ্ধ-পরবর্তী প্রজাতন্ত্রের প্রতি অনুগত থাকবেন এবং “শুধুমাত্র দেশের স্বার্থে” কাজ করবেন। শপথে তিনি স্বাক্ষর করার পর, মাতারেলা প্রতিস্বাক্ষর করেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মাতারেলা সংবিধানের রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংবিধানটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর প্রণয়ন করা হয়। ঐ যুদ্ধের পর ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসক বেনিতো মুসোলিনির পতন হয়েছিল।

মেলোনির পর, তার ২৪ জন মন্ত্রীও একইভাবে শপথ নেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী রয়েছেন, যারা কোন দলের প্রতিনিধিত্ব করেন না। শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে ছয়জন নারী।

২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রচারণার সময় মেলোনি জোরালোভাবে বলেছিলেন যে, কোন ধরণের সংঘাত দেখা দিলে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নীতির চেয়ে জাতীয় স্বার্থকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে। মেলোনি প্রায়ই ইইউ এর আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করেছেন।

এদিকে, সালভিনির ডানপন্থী লীগ পার্টি বিভিন্ন সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। সালভিনি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসাকারীদের একজন। ইউক্রেনে আক্রমণের জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ইইউ-এর প্রজ্ঞার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সালভিনি। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এমন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রুশ ব্যবসার চাইতে ইতালির ব্যবসায়িক স্বার্থের বেশি ক্ষতি হয়েছে।

XS
SM
MD
LG