বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র খুলনা বিভাগীয় সমাবেশের সময় রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায়, বিএনপির অন্তত ১৭০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খবির আহমেদ বলেন, “শনিবার রাতে খুলনা রেলওয়ে থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার।”
বিএনপির অভিযোগ, বিভাগীয় সমাবেশে যোগ দিতে আসার সময়, শনিবার দুপুরে খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে নেতা-কমীদের পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ জানায়, এ সময় বিএনপি কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং স্টেশনের দরজার কাঁচ ভেঙে দেয়।
স্টেশন মাস্টার বলেন, “সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিএনপি নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং স্টেশনের কয়েকটি জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে, বিএনপি নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং স্টেশনের আরও দরজা-জানালা ভাঙচুর করে।”
খুলনা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সোনালী সেন বলেন, “পুলিশ কাউকে বাধা দেয়নি, বরং ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”
পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার
খুলনা নগরীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই, পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন।
খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বিপ্লব বলেন, “বেশ কয়েকটি দাবিতে ধর্মঘট ডাকা মালিক সমিতির পরামর্শে পরিবহন পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়।”
এর আগে, খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি তাদের বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে, শুক্রবার সকাল থেকে দুই দিনের ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়
এছাড়া, বাংলাদেশ লঞ্চ শ্রমিক সমিতির খুলনা শাখাও তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, “ভাড়া বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার রাতে মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বৈঠকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।”
রূপসা ঘাট মাঝি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত বেপারী জানান যে সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে তারা তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়েছেন। আশ্বাসের পর রূপসা ঘাট থেকে ট্রলার চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।