অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভবিষ্যত সংকটের কথা চিন্তা করেই গ্যাস আমদানি সম্ভব নয়: তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী


বাংলাদেশের ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ চেম্বার অফ ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত 'শিল্প খাতে জ্বালানি সংকটের প্রভাব প্রশমন' শীর্ষক সেমিনারে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২।

জ্বালানি সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সরকার ভোলা জেলা থেকে প্রতিদিন প্রায় আট কোটি ঘনফুট গ্যাস (এমএমসিএফডি) জাতীয় নেটওয়ার্কে সরবরাহের পরিকল্পনা করছে। একথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, “ভবিষ্যত সংকটের কথা চিন্তা করেই গ্যাস আমদানি সম্ভব নয়।”

রবিবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ চেম্বার অফ ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত 'শিল্প খাতে জ্বালানি সংকটের প্রভাব প্রশমন' শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন। তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, “আমরা আশা করছি তিন থেকে চার মাসের মধ্যে ভোলা থেকে গ্যাস আনতে পারব।” তিনি ব্যবসায়ীসহ সকলকে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানান।

সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে গ্যাস আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, “আপনারা যদি দিনের বেলায় বিদ্যুতের ব্যবহার বন্ধ রাখেন। তবে সেটি বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতিতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করবে।”

সঙ্কট মোকাবেলায় ১০২ কোটি ডলার ব্যয় করে, বছরে ৪০০ এমএমসিএফডি গ্যাস আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন জ্বালানি উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এটি সম্ভব নয়, সম্ভাব্য আর্থিক সংকট মোকাবেলায় সরকারকে বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ করতে হবে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের বিষয়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, আমরা জানি না রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কখন শেষ হবে।”

বিদ্যুৎ সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন, “আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আর, সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কিছু গ্যাস সরিয়ে শিল্পকারখানায় দিতে পারবে।এছাড়া, সরকার স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আরও এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে।”

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, “জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকারের কাছে কিছু বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দাম কমতে থাকায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করা, গাজীপুর, সাভার এবং নারায়ণগঞ্জের সিএনজি স্টেশন, গৃহস্থালী গ্রাহক ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে শিল্পে গ্যাস সরানো। আর, সার কারখানা বন্ধ করে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সার আমদানি করতে পারে সরকার। এমন পদক্ষেপ শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াবে, তবে লোডশেডিং বাড়াতে পারে।”

ড. বিনায়ক সেন বলেন, “সার কারখানা বন্ধ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানো ভালো বিকল্প হতে পারে না।” তিনি বলেন, “সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে খাদ্য উৎপাদনে কৃষিকে সহায়তা করা।”

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম পারভেজ বলেন, “গ্যাস সংকট ও লোডশেডিং-এর কারণে অনেক শিল্পকে তাদের উৎপাদন স্থগিত করতে হচ্ছে। ফলে কাঁচামাল আমদানি কমেছে এবং রপ্তানি কমছে। আমরা যদি পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাই, তাহলে শিল্প টিকবে না।”

এ কে আজাদ বলেন, “পোশাক কারখানার মালিকদের দিনের বেলা তাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়। এখন পরিস্থিতি এমন যে তারা জনবল কমাতে বাধ্য করছে। আমরা যদি কর্মচারীদের বরখাস্ত করি, তাহলে সমাজ ও অর্থনীতিতে এর কী প্রভাব পড়বে? এটি একটি বড় প্রশ্ন।”

XS
SM
MD
LG