অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশে ১৩ জনের প্রাণহানি, ৮০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, ১০ হাজার ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত


ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এ বাংলাদেশে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন দিন যাপন করেছেন অন্তত ৮০ লাখ গ্রাহক। ঝড়ে ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কমপক্ষে ১০ হাজার। ভোলা জেলার চরাঞ্চলে কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ জলবন্দি হয়ে আছে। বিভিন্নস্থানে এখনো নিখোঁজ রয়েছে বেশ কয়েকজন। এছাড়া ঝড়ের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সিলেট ওসমানি বিমানবন্দরে অনন্তত আটটি ফ্লাইট জরুরি অবতরণ করে।
১৩ জনের মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) ভোরে বাংলাদেশের বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করার ফলে বাংলাদেশের ছয় জেলায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব জেলায় ঘূর্ণিঝড়টি তাণ্ডব চালিয়েছে।

উপকূলীয় অঞ্চল এবং কুমিল্লা, নড়াইল, সিরাজগঞ্জ, ভোলা, বরগুনা ও গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ঝড়ে, গাছ উপড়ে যাওয়ার কারণে বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল এলাকায় সোমবার রাতে বাড়ির ওপর বিশাল গাছ পড়লে এক দম্পতি ও তাদের চার বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়। এ সময় তারা ঘুমিয়ে ছিলেন।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান মেহবুব বলেন, “এ ঘটনায় নিজাম উদ্দিন, তার স্ত্রী শারমিন আক্তার সাথী ও তাদের মেয়ে নুসরাত আক্তার লিজা নিহত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাত ১০টার দিকে যখন এই ঘটনা ঘটে তখন ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার।”

সোমবার বেলা ১১টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা কমপ্লেক্সে মাথায় গাছ পড়ে মর্জিনা বেগম নামে ৩৫ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন জানান, বাগেরহাটের মর্জিনা উপজেলার রাজপুর গ্রামে গৃহকর্মীর কাজ করত। ঘটনার সময় তার ১১ বছরের ছেলে সঙ্গে ছিল, তবে সে বেঁচে যায়।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় সোমবার রাতে যমুনা নদীর এক খালে নৌকা ডুবে মা ও তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসাদ্দেক হোসেন জানান, নিহতরা পূর্ব মোহনপুর গ্রামের খোকন শেখের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা (৩০) ও তার ছেলে আরাফাত রহমান (৫) বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আয়েশার স্বামী ও অপর দুই সন্তানকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

সোমবার রাত ৮টার দিকে তারা একটি নৌকায় করে ওই খাল দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। তখন খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে সেটি ডুবে যায়। ঘটনাস্থলেই আরাফাত মারা যায় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আয়শাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ভোলায় সদর, দৌলতখান, লালমোহন ও চরফ্যাশনে গাছের নিচে চাপা পড়ে ও পানিতে ডুবে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন; সদর উপজেলার মফিজুল ইসলাম (৬০), দৌলতখান উপজেলার খাদিজা (২০), লালমোহন উপজেলার রাবেয়া (৩০) ও চরফ্যাশন উপজেলার মনির (৩০)।

সোমবার রাতে সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে গাছ চাপা পড়ে মফিজুল মারা যান। খাদিজাও গাছের নিচে চাপা পড়ে মারা যান। মনির মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় গাছের ডাল ভেঙে পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে রাবেয়া ডুবে মারা গেছেন।

বরগুনা সদর উপজেলার সোনাখালী গ্রামে, বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়লে রাতের খাবার খাওয়ার সময় ১১০ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, তিনি বাড়িতে একা ছিলেন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় গাছের নিচে পিষ্ট হয়ে দুই নারী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, পাটগাতী ইউনিয়নের রেজাউলের স্ত্রী শারমিন (২৫) ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের হান্না তালুকদারের স্ত্রী রুমাইসা (৬৫)।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান বলেন, “সোমবার রাতে ঝড়ের সময় পাঁচকাহনিয়া গ্রামে গাছ ভেঙে

৮০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং বাংলাদেশে আঘাত হানার পর সারাদেশে প্রায় ৮০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ গ্রাহক বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনে এবং বাকি গ্রাহকরা নেসকো ও ডব্লিউজেডপিডিসিওর মতো অন্যান্য সংস্থার। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী

প্রতিমন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৭০ শতাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে এবং বাকি ৩০ শতাংশ এলাকায় বুধবার বিকালের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

নসরুল হামিদ জানান, মূলত সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অনেক বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গেছে। তবে, মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো জানা যায়নি বলে জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।

১০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে বাংলাদেশের ৪১৯টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং পরবর্তী ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।

এনামুর রহমান বলেন, “সিত্রাং প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়নি। খুব দ্রুতই উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করেছে। ছয় হাজার ৯২৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ লাখ লোককে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। রাত ১০টায় এটি আঘাত হানার পর দ্রুতই এটি দুর্বল হয়ে যায়। এরপর লোকজন আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে চলে যায়।”

ভোলায় জলবন্দি ২০ হাজার মানুষ
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভোলা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ জলাবন্দি হয়ে পড়েছে।

ভোলা জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, “ক্ষতিগ্রস্তদের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে বলা হয়েছে।আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার রয়েছে। এছাড়া ২৫ মেট্রিক টন চাল ও পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরপাতিলা থেকে ১১০ জনকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে ৮ শ্রমিক নিখোঁজ
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে চট্টগ্রামে মিরসরাই সমুদ্র উপকূলে থাকা ড্রেজার ডুবে আট শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন। মীরসরাই ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন।এর আগে গতকাল সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ড্রেজারটি ডুবে যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়। মঙ্গলবার দুপুরে মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, “সাগরে বালি তোলার কাজে নিয়োজিত একটি ড্রেজার গতরাতে ডুবে ৮ শ্রমিক নিখোঁজ হন। তাদের উদ্ধারে কাজ চলছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কাউকে উদ্ধার সম্ভব হয়নি।পুলিশের একটি টিম রাত ১২টা থেকে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।”

নিখোঁজ শ্রমিকরা হলেন; মাহমুদ মোল্লা, আলামিন, ইমাম মোল্লা, আবুল বশর, তারেকসহ আটজন নিখোঁজ হন। তাদের সবার বাড়ি পটুয়াখালীর জৈনকাঠি ও মোল্লাবাড়ি থানায়।

উপজেলার ১৬ নম্বর সাহেরখালি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর বসুন্ধরা এলাকায় বেড়িবাঁধ থেকে ১০০০ ফুট দূরত্বে সাগরের মাঝে রাখা বালু উত্তোলনের ড্রেজারটি (সৈকত-২) রাখা ছিলো। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সাগরে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়ায় ড্রেজারটি ডুবে যায়। এ সময় ড্রেজারে থাকা আট শ্রমিক নিখোঁজ হন। ড্রেজারে থাকা শ্রমিক আব্দুস সালাম বলেন, “ড্রেজারে নয়জন ছিলাম। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কথা শুনে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমি ড্রেজার থেকে নেমে আসি। এ সময় বাকিরা সেখানেই ছিল।”


মোংলা বন্দরে ট্রলার ডুবি, উদ্ধার ২১
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এর প্রভাবে সোমবার মোংলা বন্দরে একটি ট্রলার ডুবে এক জেলে নিখোঁজ ও ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন শাহীন মজিদ জানান, নিখোঁজ জেলে ভোলার মো. নয়ন (২৮)।
তিনি আরও জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝড়ের সময় প্রবল ঢেউয়ের মধ্যে বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয় এলাকায় ‘এফবি আশরাফুল ইসলাম সাদ’ নামের ট্রলার ডুবে যায়।

মার্শাল আইল্যান্ড-এর পতাকাবাহী একটি বিদেশি জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিংয়ের মো. রিয়াজ বলেন, ঝড়ের কবলে পড়ে ফেয়ারওয়েতে ফিশিং বোটটি ডুবে যায়। এ দৃশ্য দেখে বিদেশি জাহাজের নাবিকরা তাৎক্ষণিকভাবে ২১ জেলেকে উদ্ধার করে।

হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন শাহিন জানান, উদ্ধার হওয়া জেলেদের সবাই ভোলার মনপুরা এলাকার বাসিন্দা।

৮ ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সোমবার রাতে আটটি ফ্লাইট, যাত্রীদের নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। এরমধ্যে সাতটি ফ্লাইট আন্তর্জাতিক রুটের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট উড্ডয়ন বন্ধ হয়ে যায়। সবমিলিয়ে তিনটি ফ্লাইটের নিয়মিত উড্ডয়ন বাতিল করা হয়।

তবে ফ্লাইট উড্ডয়ন বন্ধ থাকলেও অবতরণ বন্ধ রাখা সম্ভব হয়নি। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরগুলোর পরিস্থিতি ওসমানী বিমানবন্দরের চেয়ে বিপজ্জনক ছিল। এ কারণে, বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ফ্লাইটগুলো ওসমানীতে এসে জরুরি অবতরণ করে।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট উঠানামা বন্ধ ছিল। রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত আটটি ফ্লাইট ওসমানীতে জরুরি অবতরণ করেছে। আমরা যাত্রীদের থাকার জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা করেছি।”

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের বিমানগুলোর মধ্যে, সিঙ্গাপুর থেকে দুইটা, টরেন্টো থেকে একটি, ব্যাংকক থেকে একটি কলকাতা থেকে একটি, চেন্নাই থেকে একটি, দুবাই থেকে একটি ফ্লাইট এসেছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ফ্লাইটগুলো শিডিউল অনুসারে গন্তব্যে যাচ্ছে।

XS
SM
MD
LG