অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সোমালিয়ার হোটেলে আল-শাবাবের হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১


সোমালিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত বন্দর নগরী কিসমায়োতে জঙ্গী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তাওয়াকাল হোটেলের সামনে দিয়ে এক ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছেন (অক্টোবর ২৪, ২০২২)

সোমালিয়ার মধ্যাঞ্চলে তাওয়াকাল হোটেলের হামলাটি ছিল এই মাসে আল-শাবাবের দ্বিতীয় সশস্ত্র হামলার ঘটনা। এই হামলা এমন সময় হলো যখন সংগঠনটির বিরুদ্ধে সোমালি জাতীয় সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্র আধা-সামরিক বাহিনী যৌথ আক্রমণ চালাচ্ছে।

অক্টোবরের শুরুতে বেলেদওয়েইন শহরে ৩টি বোমা হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হন।

মোগাদিশু ভিত্তিক নিরাপত্তা সংস্থা ইগল রেঞ্জেস সার্ভিসেস এর পরিচালক আবদিসালাম গুলেদ ভয়েস অব আমেরিকাকে জানান, আল-শাবাব সোমালিয়ার প্রতিটি অংশে যুদ্ধের পরিকল্পনা আঁটছে এবং তারা মোগাদিশুর সরকারকে সতর্কবাণী পাঠাচ্ছে।

গুলেদ জানান, কিসমায়ো অঞ্চলের তাওয়াকাল হোটেলে রবিবারের হামলা থেকে এটা নিশ্চিত, যে আল-শাবাব যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো জায়গায় হামলা চালাতে পারে। এখান থেকে এটাও জানা যায়, যে আল-শাবাবের কাছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে যারা লড়তে চায়, তাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। গুলেদ জানান, তিনি এমন তথ্য পেয়েছেন, যে আল-শাবাবের বিরুদ্ধে কীভাবে যুদ্ধ করা যেতে পারে, হোটেলটিতে সে বিষয়ে বৈঠক চলছিল।

১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত সোমালি সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা চালাচ্ছে আল-শাবাব।

গুলেদ সতর্ক করেন, যদি সরকার আল-শাবাবকে পরাজিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। বিশেষত, যেসব সম্প্রদায় সরকারের সঙ্গে জোট বেঁধে তাদের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে আধা-সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছে, তাদের জন্য।

ডেনমার্কের হামাদ বিল খলিফা সিভিলাইজেশন সেন্টারের নিরাপত্তা বিশ্লেষক আবদিআজিজ হুসেন ইসাক জানান, সরকারের উচিৎ জুবাল্যান্ডে একটি দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া, কেন না, সেখানে আল-শাবাবের শক্তিমত্তা বেশি।

তিনি বলেন, “আমার ধারণা, জুবাল্যান্ড রাজ্য হচ্ছে আল-শাবাবের মূল ঘাঁটি। সোমালিয়ার মধ্যাঞ্চলে আল-শাবাব পরাজিত হলে, এই রাজ্যেই তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে তীব্র যুদ্ধ হবে। এই রাজ্যেই আল-শাবাবের জন্মস্থল এবং শীর্ষ নেতারা এখানেই আছেন”

রোববারের হামলাটি ছিল ২০১৯ সালের পর কিসমায়োতে সংগঠনটির সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা। সেবার অপর এক হোটেলে হামলার ঘটনায় সোমালি-কানাডীয় সাংবাদিক হোডান নালেয়াহসহ মোট ২৬ জন নিহত হন।

XS
SM
MD
LG