অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কেনিয়ায় নিহত পাকিস্তানি সাংবাদিকের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে; ঘটনা তদন্তের আহ্বান


পাকিস্তানি সাংবাদিক আরশাদ শরীফের মৃতদেহ বহনকারী একটি কাঠের কফিন কেনিয়ার নাইরোবির চিরোমো মর্চুয়ারিতে একটি ভ্যানে তোলা হয়েছে। ২৪ অক্টোবর, ২০২২।

পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলছেন, কেনিয়ায় পুলিশের হাতে নিহত প্রখ্যাত একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের “মৃতদেহ” বহনকারী একটি বিমান মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছুচ্ছে। উভয় দেশকেই এই ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরশাদ শরীফ (৫০)’কে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ, বিতর্কিত রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলাসহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সরকারি দমন-পীড়ন কারণে আগস্টে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে তিনি পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত এই প্রতিবেদকের মৃত্যু পাকিস্তানের মানুষকে হতবাক এবং ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি পাকিস্তানে বেসরকারি নিউজ চ্যানেল এআরওয়াই-এ বছরের পর বছর ধরে জনপ্রিয় রাজনৈতিক টক শো “পাওয়ার প্লে”র উপস্থাপনা করার জন্য ঘরে ঘরে পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রায়ই সরকারি দুর্নীতির ওপর আলোকপাত করে সরকারের পাশাপাশি ক্ষমতাধর সামরিক বাহিনীর সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রচার করতেন।

কেনিয়ার সাংবাদিকরা যারা ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট করছেন পুলিশের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তারা জানতে চেয়েছেন, কেন সড়ক অবরোধকারী কর্মকর্তারা চালককে লক্ষ্যবস্তু করেনি এবং তার পরিবর্তে শরীফকে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেছে।নিহত পাকিস্তানিকে বহনকারী চার চাকার টয়োটা গাড়িটিতে অন্তত ৯বার গুলি চালানো হয়। ময়নাতদন্তে দেখা যায় যে, শরীফের মাথায় গুলি লেগেছিল এবং রক্তপাত হয়েছিল।

মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রবক্তাদের আহ্বানের সাথে একমত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘও মারাত্মক এই গুলি চালনার ঘটনার এবং যে পরিস্থিতিসমূহ শরীফকে পাকিস্তান থেকে পালাতে বাধ্য করেছিল সেই পরিস্থিতির একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

পাকিস্তানের সরকার এবং সামরিক বাহিনী ইদানীং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতকে স্তব্ধ করার অভিযোগে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করেছে।

XS
SM
MD
LG