অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের


ফাইল ছবি – তেহরানে মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় পুলিশের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয় (১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, এপি ফটো/মিডল ইস্ট ইমেজেস, ফাইল)

ইরানের বিচার বিভাগের কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অপরাধে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ এনেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি মতে, এসব বিক্ষোভে অংশ নিতে যেয়ে অনেকে মারা গেছেন।

কুর্দিস্তান প্রদেশের প্রধান বিচারপতি মঙ্গলবার ১১০ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেন।

এর একদিন আগে আলবর্জ প্রদেশের প্রধান বিচারপতি হোসেন ফাজলি হারিকান্দি ২০১ জন বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে।

কাজভিন প্রদেশের কৌসুলি জানান, ৫৫ জন বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে।

তেহরানের কৌসুলি আলি সালেহি দেশের নিরাপত্তার ভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে জমায়েত হওয়া ও এই লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার জন্য, নিয়মের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো এবং গণশৃংখলা ভঙ্গ করার দায়ে ৩১৫ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি কিছু গ্রেপ্তারকৃত বিক্ষোভকারীকে শত্রুদের এজেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং জানান, বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উচিৎ হবে এদের ক্ষেত্রে অবশ্যই সঠিকভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করা।

ইরানের বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র মাসুদ সাতায়শি জানান, সম্প্রতি তেহরানের এভিন কারাগারে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ফৌজদারি কৌসুলির কার্যালয় থেকে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এবং এতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা কারাগার থেকে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনার ও আগুনের শিখা দেখার কথা জানিয়েছেন।

ইরানি কর্মকর্তারা ঘটনার ভিন্ন বিবরণ দিয়েছেন যার মধ্যে রয়েছে এমন কথা যে “শত্রুর এজন্টেরা” এবং জলে বন্দিদের কেউ কেউ যারা পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে তারা এ্ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা কিছু বন্দির বিরুদ্ধে এই অভিযোগও আনেন যে তারা সেলাইয়ের এক দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে কারাগারের ভেতর আগুন নেভানো ও কয়েদিদের পালিয়ে যাওয়া ঠেকানোর অজুহাতে দমন ও নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ এনেছে।

পুলিশী হেফাজতে থাকা অবস্থায় ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনি মৃত্যুবরণ করার পর থেকে আজ ৫ সপ্তাহ ধরে চলছে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ধর্মঘট। ঠিকভাবে পোশাক পরার নীতিমালা না মানার অভিযোগে মাহসাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা নারীদের হিজাব পরার বাধ্যবাধকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এবং দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন চাইছেন।

XS
SM
MD
LG