অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরানে বিক্ষোভ অব্যাহত ভাবে বেড়েই চলেছে


এই ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে ইরানের তেহরানে, চলমান সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন লোকেরা একটি চৌরাস্তা অবরোধ করছে। ২৬ অক্টোবর, ২০২২।

ইরানে পুলিশ হেফাজতে এক তরুণীর মৃত্যুর কারণে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল তা এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মাহাবাদে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন যে ঐ শহরে বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানো হয়, যেখানে আগের রাতে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হওয়ার পরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীর "সন্দেহজনক" মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভকারীরা ব্যাংক, একটি কর অফিস এবং অন্যান্য সরকারি ভবনের জানালা ভেঙে ফেলে।

বুধবার, দেশটির নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মাহসা আমিনির মৃত্যুর ৪০ দিন পূর্তি উপলক্ষে উত্তর-পশ্চিম ইরানে তার সমাধিস্থলে কয়েকশ বিক্ষোভকারী মিছিল করে গেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলিতে পোস্ট করা অপেশাদার ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ভিড় দেখা গেছে, কিছু যানবাহনে তবে বেশিরভাগ পায়ে হেঁটে, কুর্দিস্তান প্রদেশের সাকেজ শহরের আইচি কবরস্থানের দিকে গেছেন এবং ঐ রাস্তাটিতে বিক্ষোভকারীদের ভিড় ছিল। ঐ সাকেজই ছিল আমিনির শহর।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকায় গুলি চালাচ্ছিল।

বিক্ষোভকারীরা, যাদেরকে অন্যান্য স্লোগানের মধ্যে "স্বৈরশাসকের মৃত্যু" বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।

আমিনি, একজন কুর্দি নারী , যাকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানী তেহরানে তার মাথার হিজাব ঠিক ভাবে না পরার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল৷ ২২ বছর বয়সী এই তরুণী তিন দিন পরে হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যান। পুলিশ জানায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। তার পরিবার বলছে তার হৃদরোগের কোনো ইতিহাস ছিল না।

আমিনির মৃত্যু নারীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করার বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে। বিক্ষোভকে ছত্রভঙ্গ করতে সরকার প্রায়শই গোলাবারুদ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে।

XS
SM
MD
LG