অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে আগামী বছর থেকে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিফট চালু হচ্ছে: সচিব

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের খাজা আজমেরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ক্রীড়া দিবসে স্কুলের উঠানে দৌড় প্রতিযোগিতায় স্কুলের মেয়েরা। (ফাইল ছবি)
বাংলাদেশের চট্টগ্রামের খাজা আজমেরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ক্রীড়া দিবসে স্কুলের উঠানে দৌড় প্রতিযোগিতায় স্কুলের মেয়েরা। (ফাইল ছবি)

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে, বাংলাদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় এক শিফট পদ্ধতিতে পাঠদান করবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খান। তিনি আরও জানান যে এ বিষয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আর, শিক্ষকদের ক্লাস নেওয়ার সময়ও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) প্রশাসনে রদবদলের অংশ হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খানকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে বদলি করা হয়েছে। রবিবার (৩০ অক্টোবর) ছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তার শেষ কর্মদিবস।

সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা রাতারাতি স্কুল ভবন নির্মাণ করতে পারছি না। যে কারণে ছাত্র ও শিক্ষক সংখ্যা সবকিছু বিবেচনা করে আমরা দেশের সব স্কুলে এক শিফট চালু করার পরিকল্পনা করেছি।”

তিনি জানান, “এতে কোনো স্কুল বন্ধ হচ্ছে না। কোনো শিক্ষক চাকরি হারাচ্ছেন না। সবই ঠিক থাকছে। আমরা কাজটিকে ভাগ করছি। যেখানে দুই কক্ষ আছে, সেখানে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক থাকছে। আবার যেখানে ভবন করার সুযোগ আছে, সেখানে ভবন করবো। সব মিলিয়ে আমরা আশা করছি, দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এক শিফটে নিয়ে আসা সম্ভব।”

সচিব আরও বলেন, “আমরা কোনো স্কুলের জায়গাই নষ্ট করছি না। আমদের সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (এটিও) আছেন, যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। এক কক্ষের স্কুলগুলোকে তাদের অফিস করে দেওয়া হবে। তবে সব জায়গায় একই কৌশল ব্যবহার সম্ভব হবে না।”

আমিনুল ইসলাম খান বলেন, “একেক জায়গার জন্য আমরা একেক ধরনের কর্মকৌশল নির্ধারণ করবো। যে কারণে বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে একটু সময় লাগছে। কোথাও স্কুল সংখ্যা কম, এমনও গ্রাম আছে, যেখানে তিন কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র একটি স্কুল, তাতে দুটি কক্ষ আছে। সেখানে কক্ষ বাড়ানো ছাড়া কিছু করার সুযোগ নেই। যে কারণে আমরা বিভাগ অনুসারে, জেলা অনুসারে, উপজেলা অনুযায়ী, যেমন চরাঞ্চলে, হয়তো সেখানে ছাত্র সংখ্যা ৫০ জন, কিন্তু স্কুলটি রাখতে হচ্ছে। কারণ চরে পড়াবার আর কোনো ব্যবস্থা নেই। সবকিছু পর্যালোচনা করছি এবং নির্ভুলভাবে করার চেষ্টা করছি। আগামী জানুয়ারি থেকেই আমরা এটি করতে পারবো। পুরোটা করতে না পারলেও অনেকটা শেষ করবো।”

ক্লাসের সময় কেমন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঢাকা কিংবা মহানগর এলাকার একটি সময় আছে। কিন্তু গ্রামের স্কুলগুলোতে একটু দেরি করে ক্লাস শুরু হয়। আবার স্কুলগুলো গ্রামে হলেও শিক্ষকরা শহরে থাকেন। যে কারণে যাতায়াতের বিষয়টি আমরা বিবেচনায় রাখছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, শিক্ষকরা ক্লাসে থাকছেন কি না, সেটির ওপর। কারণ আমরা চাই, শিক্ষকরা যাতে নিয়মিত পাঠদান করেন। আর টিচিং-লার্নিং এর সময়টা আমরা বাড়াতে চাই। যে কারণে আমরা এক শিফটে নিয়ে আসতে চাচ্ছি। তিন ঘণ্টার জায়গায় আমরা সাড়ে চার ঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টা করতে চাই।”

ঢাকার অনেক স্কুলে অনেক বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী আছে। সেখানে তাদের এক শিফটে নিয়ে আসলে বাচ্চাদের অন্য স্কুলে পাঠানো যাবে না। সেক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত কী সচিবের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে, আমিনুল ইসলাম খান বলেন, “আমাদের কোথাও কোথাও পরিস্থিতি অনুসারে ভাবতে হবে।এই সংকট মহানগরগুলোতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে রয়েছে। আমরা চাই, আমাদের দেশের সব স্কুল সমমান সম্পন্ন হোক।”

This item is part of
XS
SM
MD
LG