অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সংকটের মধ্যে বিরোধী দল রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে—সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চলমান অর্থনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে বিরোধী দলগুলো দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

বুধবার (২ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের ২০তম অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে যখন ক্রান্তিকাল (সংকট), আমাদের বিরোধী দলে যারা আছেন তাদের মধ্যে আমি এ নিয়ে উদ্বেগ দেখিনি। বরং আমি দেখছি যে কীভাবে তারা এই সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এটা করা কি ন্যায়সঙ্গত?’

বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্যের কোনো উদ্যোগ নেবে কি না জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের (কিশোরগঞ্জ-৩) এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দেশ যখন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়, বিরোধী দলগুলোর তখন দেশপ্রেম দেখানো উচিত। কেন তারা এটা করছেন না?’

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘সারা বিশ্বে যখন সংকট দেখা দেয়, তখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের প্রবণতা পরিহার করতে হবে’।

তিনি বলেন, ‘কোন এলাকায় আওয়ামী লীগকে ভোট দিল বা দিল না, তা বিবেচনা না করেই সরকার সমগ্র বাংলাদেশ ও জনগণের উন্নয়ন করছে’।

তার সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে থাকেনি উল্লেখ তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকেই সরকারের সমালোচনা করে যাচ্ছেন, কিন্তু এক মুঠো ভাত দিয়েও জনগণের পাশে দাঁড়াননি’।

তিনি বলেন, ‘ঐক্য শুধু কথার বিষয় নয়। সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সবসময় ঐক্যে বিশ্বাস করি। যারা এগিয়ে আসবে আমরা তাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করব’।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার অপর একটি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে দোষ-ত্রুটি খোঁজার পরিবর্তে, জনগণের পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার পর প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে এবং সারা বিশ্বের মানুষ এখন এর শিকার’।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দোষ-ত্রুটি খুঁজে না দেখে সংসদ সদস্যদের ভাবা উচিত তারা আইন প্রণেতা হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের জন্য কী করতে পারেন’।

এর আগে, রুমিন ফারহানা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সিপিডি এবং একটি সংবাদপত্রের উদ্বৃতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে সেই প্রশ্ন করেন। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে খাদ্যের দাম সবচেয়ে বেশি। দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে পারে এমন ৪২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে বলেও তিনি তথ্য তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সবার বিবেচনা করা উচিত’।

তিনি বলেন, ‘আমি অস্বীকার করছি না যে বাংলাদেশে দাম বাড়েনি। যেহেতু দাম বেড়েছে, আমাদের মধ্যে যারা বেশি দামে কেনার সামর্থ্য রাখেন না, তারা যাতে কম দামে কিনতে পারেন সেজন্য ভর্তুকি দিয়ে পণ্য সরবরাহ করছি’।

গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমেদের (মৌলভীবাজার-২) এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশ এখনো অনেক উন্নত দেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে’।

তিনি বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ীও আছে যারা জনগণের ভোগান্তি চিন্তা করেন না, তারা শুধু নিজেদের মুনাফার চিন্তা করেন। তারা কখনো কখনো পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করেন, ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং তা অব্যাহত থাকবে’।

XS
SM
MD
LG