অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

গোবিন্দগঞ্জ হামলার ৬ষ্ঠ বার্ষিকী, সাঁওতাল ও বাঙালিদের সম্মিলিত শোক র‌্যালি


সাঁওতাল ও বাঙালিদের সম্মিলিত শোক র‌্যালি

বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও তিন সাঁওতাল হত্যার ৬ষ্ঠ বার্ষিকী উপলক্ষে শোক র‌্যালি ও সমাবেশ করেছেন সাঁওতাল জনগোষ্ঠির সদস্য এবং স্থানীয় বাঙালি অধিবাসীরা। শনিবার (৫ নভেম্বর) গাইবান্ধা নাট্য সংস্থার সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ ও জনউদ্যোগ-গাইবান্ধা যৌথভাবে এই কর্মসূচি পালন করে।

সমাবেশে বক্তারা সাঁওতাল হত্যার বিচার, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, গুলিতে আহত সাঁওতাল, বাড়িঘরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের ক্ষতিপূরণ এবং সাঁওতালদের রক্তভেজা তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড নির্মাণ বন্ধের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, “যে কোন এলাকার উন্নয়নে ইপিজেড স্থাপন সেই এলাকার মানুষের জন্য অবশ্যই সুখের খবর। কিন্তু সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের আদিবাসী ও বাঙালিদের বাপ-দাদার জমিতে সেখানকার ওয়ারিশদের সঙ্গে কোন ধরনের স্বাধীন, পূর্বাবহিত সম্মতি ছাড়াই ইপিজেড স্থাপনের ঘোষণা আদিবাসী-বাঙালি জনগণকে হতাশ করেছে।”

তারা, অবিলম্বে তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড স্থাপনের প্রক্রিয়া বন্ধ করে, জেলার অন্যত্র ইপিজেড স্থাপন করা, চাষাবাদরত সাঁওতাল-বাঙালিদের সেচ সুবিধার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান, সমতলের আদিবাসীদের ভূমি সংকট নিরসনে পৃথক ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠনসহ সাত দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে দাবি-দাওয়া সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন ও কালো পতাকা হাতে পাঁচ শতাধিক সাঁওতাল-বাঙালি শোক র‌্যালিতে অংশ নেন। র‌্যালিতে সাঁওতালরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে, তীর-ধনুক ও বাদ্যযন্ত্রসহ তাদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি তুলে ধরেন।

আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক ও জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

XS
SM
MD
LG