অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকদের আয়কর কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্ট

বাংলাদেশের হাইকোর্ট ভবন। (ফাইল ছবি)
বাংলাদেশের হাইকোর্ট ভবন। (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থায় কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মচারীদের নবম ওয়েজবোর্ডের গ্র্যাচুইটি ও আয়কর সংক্রান্ত মস্ত্রিসভার সুপারিশ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

‘আয়কর’ ও ‘আনুতোষিক’ সংক্রান্ত দুটি সুপারিশের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে, রবিবার (৬ নভেম্বর) এ রায় দেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি সোহরাওয়ারদীর বেঞ্চ। এর ফলে সাংবাদিক ও কর্মচারীদের আয়কর আগের মতোই কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হবে।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী আকতার হামিদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।

আইনজীবী দিদারুল আলম জনান, “এ রায়ের ফলে সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার সাংবাদিক-কর্মচারীদের আয়কর আগের মতোই মালিকপক্ষকে দিতে হবে। আর বছরে মূল বেতনের সমান দুটি গ্র্যাচুইটি পাবেন সাংবাদিক-কর্মচারীরা।”

২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হককে প্রধান করে ১৩ সদস্যের নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয়। বিচারপতি নিজামুলহক ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কাছে সংবাদকর্মীদের বেতন-ভাতা সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে তাদের প্রতিবেদন জমা দেন।

এরপর, ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা বৈঠকে, নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।এর আহবায়ক করা হয় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে। যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করে সরকার।

সে প্রজ্ঞাপনের সপ্তম অধ্যায়ের ৩ নম্বর শর্তে বলা আছে, “সকল শ্রেণির সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার কর্মরত সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক এবং প্রশাসনিক কর্মচারীদের বেতনের ওপর আরোপিত আয়কর সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদেয় হবে।”

একই অধ্যায়ের ৭ নম্বর শর্তে বলা হয়েছে, “সকল শ্রেণির সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার কর্মরত সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক এবং প্রশাসনিক কর্মচারীরা প্রত্যেক বছরে অথবা তার অংশ বিশেষ ছয় মাস বা এর অধিক সময় চাকরির জন্য সর্বেশেষ প্রাপ্ত বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত দুই মাসের মূল বেতনের সম পরিমাণ অর্থ গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রাপ্য হবেন।”

প্রজ্ঞাপনের ‘সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, কার্যকরণ ও প্রয়োগ’ শিরোনামের দ্বাদশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর শর্তে মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ তুলে ধরে বলা হয়। এতে বলা হয়, সাংবাদিক, কর্মচারীদের নিজেদের আয় থেকে আয়কর পরিশোধ করবেন এবং বছরে মূল বেতনের সমান একটি গ্র্যাচুইটি পাবেন।

নবম ওয়েজবোর্ডের মন্ত্রিসভা কমিটির এই সুপারিশ চ্যালেঞ্জ করে ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুজ্জামান। তখন রিটটির প্রাথমিক শুনানির পর ২৫ নভেম্বর আদালত রুল জারি করেন। সে রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর সুপারিশ দুটিকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

This item is part of
XS
SM
MD
LG