ইথিওপিয়ার ফেডারেল সরকার এবং টিগ্রায়ের আঞ্চলিক নেতারা, গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্বাক্ষরিত আফ্রিকান-ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তির বিষয়ে আলোচনার জন্য সোমবার কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে বৈঠক শুরু করেছেন। দুই বছরের যুদ্ধে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এলাকাগুলোতে কীভাবে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা যায় এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পাওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করছে দলগুলো।
ইথিওপিয়ার সরকারের প্রতিনিধিরা এবং টিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের নেতৃত্ব, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বৈঠক করছেন যা সংঘাতে আটকে পড়া ইথিওপিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের নতুন আশার আলো দিয়েছে।
নাইজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলুসেগুন ওবাসাঞ্জো এবং কেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা এই আলোচনায় সভাপতিত্ব করছেন।
টিগ্রায় মুখপাত্র গেটাচিউ রেডা বলেছেন, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে দেশটির আরও সুযোগ তৈরি হবে।
এই চুক্তিতে দুই বছরের সংঘাতের অবসান এবং টিগ্রায় অঞ্চলের জনগণের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইথিওপিয়ার সরকারের প্রধান আলোচক রেদওয়ান হুসেইন বলেন, টিগ্রায় সম্প্রদায়কে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করাকেই এখন অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় আমাদের প্রবেশাধিকার নেই, সেখানে আমাদের দ্রুত টেলিকম, জ্বালানি ও ব্যাংকিং সিস্টেমের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করতে হবে। তবে তার আগে আমাদের জনগণের খাদ্য ও ওষুধের প্রয়োজন এবং আমরা তা ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছি।"
এই যুদ্ধ লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং আরও হাজার হাজার লোককে হত্যা করেছে। এই সংঘাতের ফলে ত্রাণ সংস্থাগুলোর পক্ষে টিগ্রায় অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
চুক্তিতে এই অঞ্চলে জাতীয় সেনাবাহিনীর প্রত্যাবর্তনের বিনিময়ে টিপিএলএফ-কে পুনরায় একত্রিত করা এবং অস্ত্র সমর্পণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টিগ্রায় প্রতিনিধিরা বলছেন, সংঘাতের অবসান ঘটাতে তারা একটি বেদনাদায়ক ছাড় দিয়েছেন।
আলোচনা তিন-চার দিন ধরে চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।