অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কচুরিপানায় ছেয়ে আছে কাপ্তাই হ্রদের বিস্তীর্ণ এলাকা,নৌ চলাচল ব্যাহত

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম হ্রদ, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই হ্রদ। এই হ্রদের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন কচুরিপানায় ছেয়ে আছে। এর ফলে নৌ-চলাচল ব্যহত হচ্ছে হ্রদে।

এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

কাপ্তাই হ্রদের, কাপ্তাই উপজেলার জেটিঘাট, শহীদ শামসুদ্দিন ঘাঁট, বিলাইছড়ি উপজেলার কেংড়াছড়ি, বিলাইছড়িসহ হ্রদের অনেক স্থানে কচুরিপানার জট। এতে পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে।

পরীক্ষার্থী আনন্দ তনচংগ্যা, সুবির চাকমা, মিনতি চাকমা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও কাপ্তাই হ্রদে বেড়েছে কচুরিপানার জঞ্জাল। ইঞ্জিন নৌকায় ৩০ মিনিটের গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে তিন ঘন্টা।

নৌযান চালক শাহ আলম ও দুলাল জানান, কচুরিপানার জট পাড়ি দিতে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হচ্ছে, এতে মাঝ পথে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন এলাকা থেকে কচুরিপানার জঞ্জাল জেটিগেটে এসে জড়ো হচ্ছে। ফলে আইল্যান্ড এলাকা থেকে জেটিঘাট ৫ মিনিটের পথ, নৌযান গুলোর পৌঁছাতে সময় লাগছে দেড় ঘন্টার মতো।

৪নং কাপ্তাই ইউনিয়ন এর হরিণছড়ার ইউপি সদস্য অংসাচিং মারমা, নবীন কুমার তনচংঙ্গ্যা ও জেলে পাড়ার উজ্জ্বল দাশ জানান, কচুরিপানার জটের ফলে পরীক্ষার্থীদের নিয়ে সঠিক সময় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এগুলো অপসারণ করা না হলে এখানকার পরিবহন সমস্যা আরও বাড়বে।

কাপ্তাইয়ের মাছ ব্যবসায়ী দিদারুল আলম জানান, কচুরিপানার তীব্র জটের ফলে তাদের মাছ সঠিক সময় কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেনা। ফলে মাছ নষ্ট হচ্ছে, আর লোকসান গুননে হচ্ছে তাদের।

কাপ্তাই মৎস্য অবতরন কেন্দ্রের শাখা ব্যবস্থাপক মাসুদ আলম জানান, মাছ পচনশীল, তা বিভিন্ন উপজেলা থেকে সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারছেনা। এ কারণে, ব্যবসায়ী ও সরকারের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

৪নং কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ জানান, “কাপ্তাই হ্রদের কচুরিপানা এখন আঞ্চলিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর এ সময় কচুরিপানার জন্য নৌ-চলাচল সংকটে পড়ে। যার ফলে ব্যবসাসহ সব কিছুতেই সংকট শুরু হয়।”

কচুরিপানা অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করতে উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ।

XS
SM
MD
LG