ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত রাশিয়ার সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রসারিত করবে এবং মস্কো থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাবে। মস্কো থেকে ছাড়যুক্ত অপরিশোধিত তেলের আমদানি এই সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে, সেরকম ইংগিত দেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর মস্কো সফরকালে বলেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল ভোক্তা হিসেবে ভারতীয় ভোক্তারা যাতে ‘’আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে সুবিধাজনক শর্তে সর্বোত্তম সম্ভাব্য প্রবেশাধিকার’’ পায়, তা নিশ্চিত করা আমাদের ‘’মূল বাধ্যবাধকতা।‘’
মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরফের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর এবারই তার প্রথম রাশিয়া সফরে, ভারতীয় মন্ত্রী মস্কোর সাথে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে "ব্যতিক্রমীভাবে স্থিতিশীল" এবং "সময়-পরীক্ষিত সম্পর্ক" বলে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেনের নির্ধারিত ভারত সফরের কয়েক দিন আগে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মস্কো সফর করেন।
জ্যানেটের সাথে আলোচনায় তেলের দামের সীমা প্রস্তাবটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়াশিংটনে, প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়েলেন বলেন, পশ্চিমা মূল্যের ঊর্ধ্বসীমা থেকে ভারত লাভবান হতে পারে।
ইয়েলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সাথে এ্কটি সংলাপে (যুক্তরাষ্ট্র-ভারত অর্থনৈতিক ও আর্থিক অংশীদারিত্ব) যৌথ-সভাপতিত্ব করার জন্য শুক্রবার ভারতে আসবেন।
ইউক্রেন সংঘাতের পর থেকে ভারত ও চীন রাশিয়ান তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে।
ক্রমবর্ধমান তেল আমদানির ফলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বিশাল উত্থান ঘটছে।
মস্কো সফরকালে জয়শঙ্কর আরও বলেন, ভারত এই সংঘাত নিরসনের জন্য সংলাপ ও কূটনীতিতে ফিরে আসাকে ‘’'দৃঢ়ভাবে সমর্থন’’ করে এবং নয়াদিল্লি যে কোনো উদ্যোগকে সমর্থন করতে প্রস্তুত। এটি বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘’ঝুঁকিমুক্ত’’ করবে বলে তিনি অভিহিত করেছেন।