অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ধনী দেশগুলো ব্যর্থ—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


ইইউ কমিশনার ফর হোম অ্যাফেয়ার্স ওয়াইভা জোহানসনের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর পরিণতি মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না।

বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) তাঁর কার্যালয়ে ইইউ কমিশনার ফর হোম অ্যাফেয়ার্স ওয়াইভা জোহানসনের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

২০০৯ সালে বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী উন্নত দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে পরিণতি মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রতি বছর সহায়তা হিসেবে ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়।

প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ না হওয়ায় কিছু উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে তাদের উষ্ণতা নির্গমন হ্রাস ত্বরান্বিত করার জন্য অবিশ্বাস এবং অনীহা তৈরি হয়েছে।

ইহসানুল করিম বলেন, ‘আগামী বছর ইইউ ও বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে এবং তারা রোহিঙ্গাসহ অভিবাসন ইস্যুতেও আলোচনা করেন’।

শেখ হাসিনা ইইউ প্রতিনিধিদলকে বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা। নতুন রোহিঙ্গা শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত এই সংখ্যা বাড়ছে’।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যার জন্য সারা বিশ্ব এখন ভুগছে’।

ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশিদের অভিবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার এটা বন্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। আইওএমের সহায়তায় আমরা কয়েকজন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে নিয়েছি’।

ইভা জোহানসন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইইউ বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে’।

তিনি উল্লেখ করেছেন, ইইউ বর্তমানে সাড়ে চার মিলিয়ন ইউক্রেন শরণার্থীকে আতিথ্য দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ইইউভুক্ত দেশগুলোতে অনেক বাংলাদেশি বসবাস করছেন। কিছু মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করে। আমাদের জনবল দরকার, এখান থেকে (বাংলাদেশ) মানুষ যদি আইনি পথে আসে তাহলে উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে’।

প্রতিনিধিদল জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন। জোহানসন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের পদক্ষেপ জানতে চান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই নিজস্ব সম্পদ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও প্রশমনে পদক্ষেপ নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমনে সরকারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সারা দেশে অনেক গাছ লাগানো হচ্ছে। বাংলাদেশ যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম’।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের গৃহীত নীতির কারণে নারীরা এখন প্রতিটি খাতে ভালো কাজ করছে’।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার তৃণমূলের উন্নয়নে বিশ্বাসী। ‘আমাদের লক্ষ্য তৃণমূল মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা’।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন ও মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস।

টানা ক্ষমতায় থাকায় দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার সুবাদে বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রশংসনীয় অগ্রগতি হয়েছে। আমরা টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় দেশের উন্নয়ন (কাজ) দৃশ্যমান হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) তাঁর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আসন্ন শীতে দরিদ্র মানুষের মধ্যে কম্বল ও অন্যান্য গরম কাপড় বিতরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণ করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে গত ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকায় সরকার ব্যাপক উন্নয়ন কাজের গতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে’।

তিনি বলেন, তার সরকার সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো নিশ্চিত করা যে কেউ যেন বঞ্চিত ও অবহেলিত না থাকে এবং প্রত্যেকেই একটি সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে। আমরা সে ব্যবস্থা করেছি’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার প্রতিবন্ধী, হিজড়া, বেদে(জিপসি) এবং কুষ্ঠরোগীদের ঘরসহ বিভিন্ন সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন করেছে। আমরা প্রত্যেকের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে চলেছি। শুধুমাত্র সমাজে মর্যাদাবান এবং অবস্থান অনুযায়ী নয়, বরং সাধারণ মানুষসহ নির্বিশেষে সকলের’।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও খরাসহ প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনুদান নিয়ে আসার জন্য শেখ হাসিনা ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকাসক্তি এবং অন্যান্য সামাজিক ব্যাধি থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে তিনি ব্যবসায়ীদের বিশেষ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক খাতে বৃহত্তর সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শিল্পপতিদেরও ক্রীড়াবিদ এবং প্রতিবন্ধী সম্প্রদায় থেকে নিয়োগের আহ্বান জানান।

তিনি ত্রাণ তহবিলে অনুদান প্রদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘সরকার আসন্ন শীত মৌসুমে শীতার্ত মানুষদের সহায়তায় আগাম ব্যবস্থা নিতে চায়’।

XS
SM
MD
LG