অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাল্ক বিদ্যুতের শুল্ক বৃদ্ধি সংক্রান্ত রিভিউ আপিলের রায় সোমবার

বিদ্যুৎ সরবরাহ
বিদ্যুৎ সরবরাহ

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), বাল্ক বিদ্যুতের শুল্ক বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (পিডিবি) পুনর্বিবেচনার আপিলের বিষয়ে সোমবার (২১ নভেম্বর) সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। রবিবার (২০ নভেম্বর)এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে, ভোক্তা অধিকারকর্মীরা আর কোনো মূল্য বৃদ্ধির বিপক্ষে।

গত ১৩ অক্টোবর বিইআরসি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করতে পিডিবির প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। এর পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পিডিবি ১৪ নভেম্বর বিইআরসিতে রিভিউ আপিল করে। বিইআরসি থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রস্তাবটি জমা দেওয়ার আগে পিডিবি সরকারের সর্বোচ্চ নীতিগত পর্যায় থেকে একটি অনুমোদন পেয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ রিভিউ আপিল করতে পিডিবিকে অনুমোদন দিয়েছেন।

বিইআরসি ১৩ অক্টোবর বিপিডিবির বাল্ক বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছিল যে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিয়ন্ত্রকের সিদ্ধান্ত পুনমূল্যায়নের জন্য আপিল প্রস্তাব জমা দিতে পারে।

এবার বিইআরসি এই বিষয়ে আর কোনও গণশুনানি ছাড়াই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এএসএম শামসুল আলম কোনও গণশুনানি ছাড়াই বিইআরসির সিদ্ধান্তকে স্বেচ্ছাচারী কাজ এবং বিইআরসি আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, “লোডশেডিং এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অত্যধিক মূল্যে মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে, তখন বিইআরসির এই ধরনের সিদ্ধান্ত জনগণের জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে।”

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুসারে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য সরকার প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে। আইএমএফ সংকট ব্যবস্থাপনায় সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে সাড়ে চারশ’ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানার পিডিবির বাল্ক বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর সর্বশেষ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয় ১৮ মে। পিডিবি গণশুনানিতে বাল্ক বিদ্যুতের শুল্ক ৬৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় এবং বিইআরসির একটি প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন কমিটি ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।

পিডিবি আপিল প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে যে তার সরবরাহের প্রকৃত খরচ প্রতি ইউনিট আট দশমিক ৯৬ টাকা। এর আগে পিডিবি বলেছিল তার সরবরাহের প্রতি ইউনিট খরচ আট দশমিক ১৬ টাকা।

একটি সূত্র জানিয়েছে, এখন বিতরণ কোম্পানিগুলো খুচরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য তাদের প্রস্তাব জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, বিতরণ সংস্থাগুলো খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির জন্য জ্বালানি নিয়ন্ত্রকের কাছে প্রস্তাব জমা দিতে কাগজপত্র প্রস্তুত করছে। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো এখন তাদের প্রস্তাব প্রস্তুত করার জন্য কাজ করছে...তারা বাল্ক শুল্ক বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব হিসাব করছে।”

পিডিবি কর্মকর্তারা আশা করছেন যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কমপক্ষে ২০ শতাংশ বাল্ক শুল্ক বাড়াবে।

গণশুনানির পর ২০২০ সালের মার্চ মাসে খুচরা বিদ্যুতের শুল্ক সর্বশেষ বাড়ানো হয়েছিল। একটি ঘোষণার মাধ্যমে বিইআরসি ২০২০ সালের ১ মার্চ থেকে কার্যকর হিসেবে খুচরা পর্যায়ে পাঁচ দশমিক তিন শতাংশ এবং পাইকারি স্তরে আট দশমিক চার শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিল।

ঐ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুচরা বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট (প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা) ছয় দশমিক ৭৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাত দশমিক ১৩ টাকা এবং বাল্ক পর্যায়ে চার দশমিক ৭৭ টাকা থেকে পাঁচ দশমিক ১৭ টাকা করা হয়।

XS
SM
MD
LG