অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

এলজিবিটিকিউ ‘প্রোপাগান্ডা’ প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিল রাশিয়ার দুমা


মস্কোতে অবস্থিত রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষ, স্টেট দুমা’র, এক অধিবেশনে উপস্থিত রুশ আইনপ্রণেতারা, ২৪ নভেম্বর ২০২২। (দ্য স্টেট দুমা, দ্য ফেডারেল অ্যাসেম্বলি অফ দ্য রাশিয়ান ফেডারেশন, এপি’র মাধ্যমে প্রাপ্ত)

রুশ আইনপ্রণেতারা বৃহস্পতিবার একটি প্রস্তাবে তাদের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। সমকামী অধিকারের পক্ষে কাজ করে, দেশটিতে এমন কর্মকাণ্ডের উপর উল্লেখযোগ্য বিধিনিষেধ আরোপ করে এই প্রস্তাবটি । এমন পদক্ষেপ দেশটির কোণঠাসা হয়ে পড়া এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের উপর দীর্ঘদিনের নিপীড়নে আরও একটি ধাপ যোগ করল।

নতুন আইনটি এমন কর্মকাণ্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা বর্ধিত করল, যেগুলোকে কর্তৃপক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি “অপ্রথাগত যৌন সম্পর্ক বিষয়ক প্রোপাগান্ডা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এটি “সমকামী প্রোপাগান্ডা” হিসেবে পরিচিত আইনটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। রাশিয়ায় “প্রথাগত মূল্যবোধ” উন্নয়নের চেষ্টায় ২০১৩ সালে ক্রেমলিনে ঐ আইনটি স্বীকৃত হয়।

এই বছর আইনপ্রণেতারা ১৮ বছর বা ততোধিক বয়সী মানুষের কাছে এমন তথ্য প্রচার নিষিদ্ধ করতে উদ্যত হন।

স্টেট দুমায় বৃহস্পতিবার প্রস্তাবটির তৃতীয় ও চূড়ান্ত সংস্করণটি অনুমোদন পায়। দুমা হল রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষ। এরপর এটি সংসদের উচ্চকক্ষে যাবে, যার নাম হল দ্য ফেডারেশন কাউন্সিল। তারপর সেটি যাবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে। তিনি স্বাক্ষর করলে সেটি আইনগত বৈধতা পাবে।

নতুন আইনটি সকল বিজ্ঞাপন, গণমাধ্যম ও অনলাইনে, বইয়ে, ফিল্মে ও থিয়েটারে এমন ধরণের “প্রোপাগান্ডা” অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে বিবেচিত জিনিসপত্রকে বেআইনী করবে। প্রস্তাবটিতে “প্রোপাগান্ডা”-কে নির্দিষ্ট করে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। ২০১৩ সালের আইনটি সমলিঙ্গের বিয়ে চিত্রায়িত করার বিরুদ্ধে প্রায়ই ব্যবহৃত হয়েছে এবং এলজিবিটিকিউ অধিকার গোষ্ঠী ও সক্রিয়বাদীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন চালাতে ব্যবহার করা হয়েছে।

আইনটির লঙ্ঘন জরিমানাযোগ্য অপরাধ। অনাবাসীরা এমন অপরাধ করলে তাদেরকে রাশিয়া থেকে বহিষ্কার করা যেতে পারে। জরিমানার পরিমাণ ১,০০,০০০ থেকে ২০ লক্ষ রুবল (১,৬৬০-৩৩,০০০ ডলার) পর্যন্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের জন্য বিদেশীরা বহিষ্কৃত হওয়ার আগে ১৫ দিন পর্যন্ত কারাবাসের সাজা পেতে পারেন।

এই প্রস্তাবে আইনটির লঙ্ঘনকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। রুশ আইন অনুযায়ী ফৌজদারি বিধিটি শুধুমাত্র একটি পৃথক প্রস্তাবের মাধ্যমেই পরিবর্তন করা যায়। কিছু কিছু আইনপ্রণেতা এমন আভাস দিয়েছেন যে তারা এমন পদক্ষেপের পক্ষে রয়েছেন।

২০২০ সালে রাশিয়া পরিষ্কারভাবে সমলিঙ্গের বিয়ে বেআইনী ঘোষণা করে। দেশটির সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তা করা হয়। সংবিধানে অন্যান্য জিনিসের মধ্যে এও বলা হয় যে, “বিয়ে হল একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে মিলন”।


XS
SM
MD
LG