অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সিরিয়ার কুর্দিরা আইএস’এর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে


সিরিয়ার হাসাকেহ-তে সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস এর কুর্দি কমান্ডার, মাজলুম আবদি বক্তব্য রাখছেন, ২৬ নভেম্বর ২০২২।

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন প্রধান বাহিনীটির কমান্ডার শনিবার বলেন যে, গত সপ্তাহ ধরে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের হামলার ফলে, তাদের বাহিনীটি ইসলামিক স্টেট-এর বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযান স্থগিত করেছে।

সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এর মাজলুম আবদি সংবাদদাতাদের বলেন যে, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তুরস্কের বিমান হামলার পর, তুরস্ক এখন স্থলপথে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, তুরস্ক সমর্থিত বিরোধী যোদ্ধারা অভিযানটিতে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আবদি আরও বলেন যে, বিগত সপ্তাহ ধরে তুরস্কের চালানো হামলাগুলো ঐ অঞ্চলের অবকাঠামোকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

আবদি বলেন, তুরস্ক গত ১৩ নভেম্বর ইস্তাম্বুলে হওয়া বোমা হামলার ফায়দা নিচ্ছে। তুরস্ক ঐ হামলার জন্য কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে। কুর্দি সংগঠনগুলো ইস্তাম্বুলের ঐ হামলায় কোন সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে। ঐ হামলার ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয় এবং ডজনকয়েক মানুষ আহত হন।

ইস্তাম্বুলের ঐ ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে, বিগত সপ্তাহটি ধরে তুরস্ক পার্শ্ববর্তী সিরিয়া ও ইরাকে লুকিয়ে থাকা সন্দেহভাজন কুর্দি বিদ্রোহীদের উপর দফায় দফায় বিমানহামলা চালায়।

আবদির এমন মন্তব্যের কয়েকঘন্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায় যে, সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শাদাদ্দাহ শহরের ঘাঁটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে লক্ষ্য করে দুইটি রকেট হামলা চালানো হয়। তবে তাতে কোন “হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বা ঐ ঘাঁটি বা যৌথ বাহিনীর সম্পদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।”

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয় যে, এসডিএফ এর যোদ্ধারা রকেটগুলোর উৎপত্তিস্থল পরিদর্শন করে এবং সেখানে তৃতীয় আরেকটি অব্যবহৃত রকেট খুঁজে পায়।

বিরোধীদের যুদ্ধ নজরদারি সংস্থা, ব্রিটেন ভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস, শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঐ ঘাঁটিতে হামলার জন্য আইএস এর গোপন চক্র বা স্লিপার সেলগুলোকে দায়ী করে।

শুক্রবার মধ্যরাতের আগে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসডিএফ বলে যে, তুরস্কের ড্রোন যখন আল-হোল শিবিরের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল তখন আইএস এর পরিবারগুলোর কিছু কিছু সদস্য নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা করে এবং স্থাপনাটি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আল-হোল শিবিরে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করে, যাদের বেশিরভাগই আইএস যোদ্ধাদের স্ত্রী, বিধবা ও সন্তান। শিবিরটি থেকে কতজন পালিয়ে যায় তা এসডিএফ জানায়নি, তবে তারা বলে যে পালিয়ে যাওয়া সবাইকেই পরবর্তীতে আটক করা হয়েছে।



XS
SM
MD
LG