অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে সিলেট থেকে যুক্ত হচ্ছে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস


বাংলাদেশেল জাতীয় গ্রীড সঞ্চালন লাইনে যুক্ত হচ্ছে প্রতিদিন আরও প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। সোমবার (২৮ নভেম্বর) থেকেই সিলেটের বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রের ১ নম্বর কূপ থেকে এই গ্যাস সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগে চলমান গ্যাস সঙ্কট কিছুটা লাঘব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বিয়ানীবাজারের ১ নম্বর কূপে খনন কাজ শুরু হয় গত সেপ্টেম্ব থেকে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এ উদ্যোগ নেয়।

সোমবার (২৮ নভেম্বর) থেকে এই কূপ হতে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যাবে বলে জানান সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের (এসজিএফএল) মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল প্রামানিক। তিনি বলেন, “রবিবার বিকালে আমরা পরীক্ষামূলক সব কাজ সম্পন্ন করেছি। গ্যাসের চাপ পরীক্ষার (টেস্টিং) কাজ শেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের জন্য কারিগরি সব প্রস্ততি সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবার থেকেই এ কূপ হতে সঞ্চালন লাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব।”

এই কূপ থেকে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিড লাইনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রটি সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের (এসজিএফএল) আওতাধীন। এই গ্যাসক্ষেত্রের ২ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ হচ্ছে।

এসজিএফএল সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ডের ১ নম্বর কূপ থেকে ১৯৯১ সালে গ্যাস তোলা শুরু হয়। ২০১৪ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালে আবার উত্তোলন শুরু হলেও, ঐ বছরের শেষ দিকে আবার তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৭ সালের শুরু থেকে কূপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

এরপর বাপেক্স ঐ কূপে অনুসন্ধানকাজ চালিয়ে গ্যাসের মজুত পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর কূপটিতে পুনঃখননকাজ (ওয়ার্ক ওভার) শুরু হয়। পুণঃখনন শেষে গত ১০ নভেম্বর থেকে কূপে গ্যাসের মজুদের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর গ্যাসের চাপ পরীক্ষা শেষে কূপ থেকে দ্রুত জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাস দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়।

এসজিএফএলর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বর্তমানে এই কূপের ৩ হাজার ২৫৪ মিটার গভীরে ৭০ বিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস মজুত আছে। গ্যাসের চাপ পরীক্ষার পর দেখা গেছে, কূপটি দৈনিক ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে সক্ষম। তবে কারিগরি বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। এতে দৈনিক ১২৫ থেকে ১৩০ ব্যারেল কনডেন্স গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

মিজানুর রহমান বলেন, “২০২৫ সাল নাগাদ দেশের সকল কোম্পানি প্রায় ৪৬ টি কূপ খননের (ওয়ার্ক ওভার) মাধ্যেমে ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।”

বর্তমানে এসজিএফএলের আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র আছে। এগুলো হলো; হরিপুর গ্যাস ফিল্ড, রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড, ছাতক গ্যাস ফিল্ড, কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ড ও বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ড।

এর মধ্যে ছাতক গ্যাস ফিল্ড পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। বাকিগুলোর ১২টি কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৯১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

XS
SM
MD
LG