অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রতিবেদন:কর্তৃত্ববাদের উত্থানে দূর্বল হয়ে পড়ছে গণতন্ত্র


FILE - Police officers disperse people at the closed Victoria Park on the 33rd anniversary of the crackdown on pro-democracy demonstrations at Beijing's Tiananmen Square in 1989, in Hong Kong, June 4, 2022.

বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের প্রচারণা চালানোর জন্য গঠিত একটি বৈশ্বিক সংগঠনের মতে, সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের অবক্ষয় হচ্ছে। এর পেছনে সাধারণ মানুষের নির্বাচনের বৈধতায় বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা কমে যাওয়ার মতো অসংখ্য সমস্যাকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।

৩৪টি সদস্য দেশের সমন্বয়ে গঠিত ইন্টারন্যশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমক্র্যাসি এন্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিসটেন্স বা ইন্টারন্যশনাল আইডিয়া একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক শাসনের অবক্ষয়ের পেছনে ইন্ধন যোগাচ্ছে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী ফলাফলকে অবমাননা করার প্রচেষ্টা, রাজনৈতিক দল ও তাদের চলমান বাস্তবতার সঙ্গে যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন নেতৃবৃন্দদের বিষয়ে যুব-সমাজের ভ্রান্ত ধারণা এবং একই সঙ্গে উগ্র ডানপন্থী চিন্তাধারার উত্থান, যা রাজনীতির মেরুকরণ করেছে।

স্টকহোম ভিত্তিক সংগঠনটি বৈশ্বিক গণতন্ত্র পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে, গণতন্ত্রের দিকে ধাবমান দেশের তুলনায় কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা অবলম্বনের পথে রয়েছে এরকম দেশের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়াও, সারা বিশ্বের ক্ষমতাসীন কর্তৃত্ববাদী শাসকরা তাদের শোষণের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে, এবং এ বিষয়ে ২০২১ সালের রেকর্ড সবচেয়ে খারাপ।

৬৪ পাতার এই প্রতিবেদনে ১৭৩টি দেশের গণতন্ত্রের কার্যকারিতা পরিমাপ করা হয়েছে। প্রতিবেদন মতে, গত ৫ বছরে গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে উন্নয়নের ধারা স্থিমিত হয়ে পড়েছে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গণতন্ত্র দুর্বল হচ্ছে এবং কর্তৃত্ববাদ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এই অঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতায় থাকলেও ৮৫ শতাংশ মানুষ এমন দেশে বসবাস করেন, যেখানে গণতন্ত্র দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। এমন কী অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও তাইওয়ানের মতো দেশেও গণতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা দিয়েছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, “বিশ্ব এখন একটি ক্রান্তিলগ্নে রয়েছে”। “উপযুক্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা” মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক সংগঠনের সংস্কার ও দেশের নাগরিক ও সরকারের মধ্যে “সামাজিক চুক্তির” বিষয়গুলো নিয়ে নতুন ভাবে চিন্তা করা, যাতে এই দুই পক্ষ নতুন ও বিবর্তনশীল চাহিদা ও দাবির বিপরীতে সঠিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

XS
SM
MD
LG