অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নিরাপদ সামুদ্রিক শিল্প উদ্যোগে আইএমও-এর সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ


আইএমও-এর সদর দপ্তরে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রির ৫০ বছর: দ্য রোড টু ডিকার্বনাইজেশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এবং আইএমও-তে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সাইদা মুনা তাসনিম

আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে নিরাপদ মেরিটাইম শিল্প প্রতিষ্ঠায়, বাংলাদেশের উদ্যোগে সহযোগিতা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) এবং প্রধান মেরিটাইম অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, “নিরাপদ সামুদ্রিক শিল্পে রূপান্তর করতে, বাংলাদেশের, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশগুলোর (এলএলডিসি) এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র গুলোর (এসআইডিএস) জন্য আইএমও এবং প্রধান মেরিটাইম অংশীদারদের কাছ থেকে আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং জ্ঞান সহায়তা প্রয়োজন।”

লন্ডনে আইএমও-এর সদর দপ্তরে ১২৮তম আইএমও কাউন্সিলের সময়, একই শহরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রির ৫০ বছর: দ্য রোড টু ডিকার্বনাইজেশন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে নিরাপদ এবং পরিবেশগতভাবে দায়িত্বশীল জাহাজ পুনর্ব্যবহার করার জন্য তার সেনসারেক প্রকল্প ফেজ-থ্রি তে আইএমও-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে; এবং ইতোমধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জাহাজ পুনর্ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে ইস্পাত হ্রাস এবং পুনর্ব্যবহার করে বৈশ্বিক ডিকার্বনাইজেশনে যথেষ্ট অবদান রেখেছে।”

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এবং আইএমও-তে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সাইদা মুনা তাসনিম বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জলবায়ু-সমর্থক নেতৃত্বে, বাংলাদেশ সরকার ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের নৌ-পরিবহন খাতকে ডিকার্বোনাইজ করতে একটি রূপকল্প ও মিশন নির্ধারণ করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আইএমও জিএইসজি হ্রাস কৌশল হিসেবে গৃহীত হয়েছে।”

আইএমও-তে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি একটি ইউএনসিটিএডি রিপোর্টসহ কিছু গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়েছেন। যা প্রমাণ দেখিয়েছে যে বাংলাদেশ এককভাবে একটি প্রধান জাহাজ পুনর্ব্যবহারকারী দেশ হিসাবে, প্রতি মেট্রিক টন ইস্পাত পুনর্ব্যবহৃত হয়ে প্রায় দুই হাজার কেজি সিওটু হ্রাস করে, যা সামুদ্রিক শিল্পে কার্বনাইজেশনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।”

বাংলাদেশের হাইকমিশনার দেশের সরকারি ও বেসরকারি শিপিং সেক্টরে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন প্রযুক্তি প্রবর্তনের জন্য বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরে পাইলট প্রকল্প শুরু করতে আইএমও -এর প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আইএমও মহাসচিব কিট্যাক লিম, জাহাজ পুনর্ব্যবহার, পরিবেশগত এবং নিরাপত্তার মান উন্নত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের একটি নিরাপদ শিপিং শিল্পে রূপান্তরের জন্য আইএমও-এর ক্রমাগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

নৌ-পরিবহন, বন্দর ও জলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইএমও কাউন্সিলের ভারতীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান সঞ্জীব রঞ্জন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌযোগাযোগ সম্পূর্ণ পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানান। এই উদ্যোগ ডিকার্বনাইজেশনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে বলে বর্ণনা করেন তিনি।

বাংলাদেশের নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. নিজামুল হক একটি নিরাপদ শিপিং শিল্প অর্জনে বাংলাদেশের রোডম্যাপের বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। লন্ডনে আন্তর্জাতিক সংস্থায় ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মার্কো ফারানি, আইএমওতে জাপানের জাপানের স্থায়ী প্রতিনিধি কোহেই ইওয়াকি, যুক্তরাজ্যে শ্রীলঙ্কার ডেপুটি হাইকমিশনার সামান্থা পাথিরানা এবং আইএমও’র ডেপুটি ডিরেক্টর তিয়ান বিং হুয়াং প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।

পরে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রতিমন্ত্রী খালিদ ২০২৩ সালের আইএমও নির্বাচনে সেক্রেটারি জেনারেল পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসাবে আইএমএসও-এর মহাপরিচালক মঈন আহমেদ-এর নাম ঘোষণা করেন।

XS
SM
MD
LG