অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সীমান্ত হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা গ্রেফতার


দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালক সুহ হুন, মাঝে, দক্ষিণ কোরিয়ার সোওল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে পৌঁছান, ডিসেম্বর ২, ২০২২।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালককে শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০২০ সালে উত্তর কোরিয়ার সমুদ্রসীমার কাছে, দক্ষিণ কোরিয়ার এক মৎস্য কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায়, বৈরি রাষ্ট্রটির সম্পৃক্ত থাকার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সুহ হুন-কে শনিবার প্রথম প্রহরে গ্রেপ্তার করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-এর সরকার যখন ঐ হত্যাকাণ্ড এবং একই বছরের আরও একটি হত্যার ঘটনার বিষয়ে তার উদারপন্থী পূর্বসুরির কর্মকান্ড তদন্তের সময়ে সুহ হুনকে গ্রেপ্তার করা হলো। সাবেক প্রেসিডেন্ট সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য উত্তর কোরিয়াকে সন্তুষ্ট করতে মরিয়া হয়ে পড়েছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

সাবেক প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন, তদন্ত নিয়ে সুহের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মুন এই সপ্তাহে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি ইউনের সরকারের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন এবং স্পর্শকাতর নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ করেন। মুন জায়ে-ইন মে মাসে, দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার আগে তার একমাত্র মেয়াদ ব্যয় করেন আন্ত-কোরীয় সম্প্রীতি জন্য।

সোওল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক কিম জিওঙ-মিন সুহকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রসিকিউটরের অনুরোধ অনুমোদন করেন। আদালত এক বিবৃতিতে কারণ হিসেবে বলেছে, তিনি প্রমাণ ধ্বংস করার চেষ্টা করতে পারেন। প্রসিকিউশনের করা গ্রেপ্তার আবেদন পর্যালোচনার জন্য শুক্রবার সুহ-কে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তিনি অভিযোগ সম্পর্কে সংবাদদাতাদের প্রশ্নের উত্তর দেননি।

দক্ষিণ কোরিয়ার বোর্ড অফ অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশনের পূর্ববর্তী একটি তদন্ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, মুন সরকারের কর্মকর্তারা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কোরিয়ার পশ্চিম সমুদ্রসীমায় ৪৭ বছর বয়সী মৎস্য কর্মকর্তা লি ডে-জুন জলে ভাসছেন জানার পরেও তাকে উদ্ধার করার জন্য কোনও কার্যকর প্রচেষ্টা চালাননি।

হত্যাকাণ্ডের দুই মাস আগে, জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন সুহ। এর আগে তিনি মুনের গুপ্তচর বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার প্রতি সন্দেহ যে, তিনি এই বিষয় সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা নথি নষ্ট করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিতে মন্ত্রিপরিষদের একটি বৈঠককে ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে লি-র মৃত্যুর বিষয়ে জনগণকে দেওয়া ব্যাখ্যার জন্য সরকার বানানো প্রতিবেদন তৈরি করে।

সুহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস এবং কোস্ট গার্ডকে লি স্বপক্ষ ত্যাগ করছিলেন উল্লেখ করে তার হত্যার মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

মুন সরকারের দল এক বিবৃতিতে, এই তদন্তকে এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, কোস্টগার্ড, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস এবং অন্য গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দক্ষিণ সাগরের ঘটনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেখানকার পরিস্থিতি ও তথ্যের বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে”।

XS
SM
MD
LG