বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার কুর্শা কেএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা, মহন জোয়ার্দ্দার কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। রবিবার (৪ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঐ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনেই চড়-থাপ্পড় মেরে, গলায় ধাক্কা দিয়ে লাঞ্ছিত করেন মহন জোয়ার্দ্দার। শিক্ষকরা জানান, “আওয়ামী লীগ নেতা মহন জোয়ার্দ্দার তার নিজের জন্য অষ্টম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট নিতে বিদ্যালয়ে আসেন। খাতায় তার নাম রয়েছে আল-আমীন। তারপরও তিনি মহন জোয়ার্দ্দার নামে সার্টিফিকেট নিতে চান। নামের মিল না থাকায় সার্টিফিকেট দিতে অপারগতা জানালে অন্য শিক্ষকদের সামনেই প্রধান শিক্ষককে ওপর চড়াও হন তিনি। আমরা তার কঠোর শাস্তির দাবি করছি।”
প্রধান শিক্ষক নুরু নবী জানান, “মহন জোয়ার্দ্দার এই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি। রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তার নিজের জন্য অষ্টম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট নিতে আসেন। তিনি এই বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি পাস করেছিলেন। খাতায় তার নাম রয়েছে আল-আমীন। কিন্তু তিনি মহন জোয়ার্দ্দার নামে সার্টিফিকেট নিতে চান। নামের মিল না থাকায় সার্টিফিকেট দিতে অপারগতা জানালে, ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আমাকে লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি শামসুর নাহারকে জানিয়েছি। আমি তার বিচার চাই।”
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মহন জোয়ার্দ্দার বলেন, “আমি এই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি। পড়াশোনা করেছি এই প্রতিষ্ঠানে। এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট হারিয়ে যাওয়ায়, ডাইভিং লাইসেন্সের জন্য অষ্টম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট নিতে গেলে এমন ঘটনা ঘটে।” তবে প্রধান শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুর নাহার বলেন, “মারধরের ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানানো হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল আলম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।