অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

"খেলাটা থাকবে হয়তো ফ্রান্স-ব্রাজিলের হাতে, তার পরে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা"- কাজী সালাউদ্দিন


বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন

সম্প্রতি আমরা কথা বলেছি বাংলাদেশ ফুটবলের কিংবদন্তী এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের (৬৮) সঙ্গে।

১৯৬৯ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছরের পেশাদারী ক্যারিয়ার ছিল সালাউদ্দিনের। ঘরোয়া লিগের ২৫৫ ম্যাচে তিনি ১০৩ টি গোল করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের হয়ে খেলে সালাউদ্দিন মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার জন্য তহবিল সংগ্রহ করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ দলের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিষেক হয় তার। লাল সবুজের জার্সি গায়ে সর্বমোট ২৭ ম্যাচে ৯টি গোল করেছিলেন সালাউদ্দিন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে হংকংয়ের ক্লাব ক্যারোলাইন হিলে যোগদানের মধ্য দিয়ে প্রথম বাংলাদেশি ফুটবলার হিসেবে দেশের বাইরের কোন লিগে খেলেন তিনি।

ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে কাজী সালাউদ্দিন কথা বলেছেন কাতার বিশ্বকাপে চোখ রাখার মত খেলোয়াড় ও দলগুলো নিয়ে। একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে নানান চড়াই উৎরাইয়ের পরেও ফুটবল নিয়ে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল ফেডারেশন নিয়ে তার আশা ও কার্যক্রমের কথা বলেছেন তিনি। জাতীয় দলের ফুটবলারদের কোচিং, বেতন ভাতা, জাতীয় লিগকে টেকসই করতে সরকারী ও করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনসহ নানান ফুটবল ভাবনা উঠে এসেছে আলাপে। ভয়েস অফ আমেরিকার পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাকিব প্রত্যয়।


ভয়েস অফ আমেরিকা: বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন করছেন?

কাজী সালাউদ্দিন: …একটা ইউরোপিয়ান স্টাইল, একটা লাতিন আমেরিকান স্টাইল, সো টু কনট্রাস্ট। আমার দুটোই পছন্দ। আই উইল এনজয় দ্যা ওয়ার্ল্ড কাপ বাই নট সাপোর্টিং এনিবডি। কিন্তু ফুটবলকে সাপোর্ট করেই খেলা দেখবো।

ভয়েস অফ আমেরিকা: ফুটবল বিশ্বকাপে ছোট বেলাতেও কোন দল সাপোর্ট করতেন না?

কাজী সালাউদ্দিন: ছোটবেলায় না, আমার প্লেইং ডেজে ছিল একটা টিম - হল্যান্ড। ঐখানকার ব্যাচটায় তখন ছিলেন জোহান ক্রুয়েফ, পরে এল রাইকার্ড, গুলিত, বাস্তেন। তো ওই টাইমটায় আই ওয়াজ এ ফ্যান অব নেদারল্যান্ড। তাছাড়া ঐরকম কোন ব্লাইন্ড সাপোর্টার না আমি।

ভয়েস অফ আমেরিকা: ক্লাব ফুটবলে আপনি কাকে সাপোর্ট করেন?

কাজী সালাউদ্দিন: ক্লাব ফুটবলে আমি চেলসিকে সাপোর্ট করি।


ভয়েস অফ আমেরিকা: বিশ্বকাপে আপনার চোখে সম্ভাবনাময় মনে হয় কোন কোন দলকে?

কাজী সালাউদ্দিন: দুই-তিনটার কথা বলতে গেলে প্রথমে আসবে ফ্রান্স। বাট ফ্রান্সের একটা যেটা হিস্টোরিকাল প্রবলেম, আজ পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডকাপে যে লাস্ট কাপ জিতেছে, দ্যাাট উইনার হ্যাজ নেভার ওন দ্যা নেক্সট ওয়ার্ল্ডকাপ। ব্রাজিলও পাঁচবার জিতেছে। ফ্রান্সও জিতেছে (দু’বার) - বাট পরপর না। আই উড থিংক খেলাটা থাকবে হয়তো ফ্রান্স-ব্রাজিলের হাতে। (দে আর) মোস্ট ফেভারিট। তার পরে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা । সো ওয়ার্ল্ডকাপটা আমার যা মনে হয় এই চারটা টিমের গ্রিপে থাকবে।

ভয়েস অফ আমেরিকা: তো এই চারটা টিমের মধ্যে কোন প্লেয়ারের দিকে চোখ রাখা উচিৎ?

কাজী সালাউদ্দিন: ফ্রান্সের তো অনেক প্লেয়ার আছে, একটা দুটা না। স্পেশালি চোখ রাখতেই হবে যার উপর, সে হল এমবাপ্পে। হি ইস এ টপ প্লেয়ার। একাই একটা খেলাকে জিতিয়ে নিয়ে আসতে পারে।

ভয়েজ অব আমেরিকা: আপনার চোখে এই মুহুর্তে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ প্লেয়ার কে?

কাজী সালাউদ্দিন: আই থিংক এমবাপ্পে। নাউ। হি হ্যাজ স্পিড, হি ইজ এ ফিনিশার অ্যান্ড হি ইজ ভেরি স্ট্রং। একটা ফুটবলারের যা দরকার, হি হ্যাজ এভরিথিং।

ভয়েস অফ আমেরিকা: ব্রাজিলের নেইমার কি পেলেদের ধারে কাছে আছে?

কাজী সালাউদ্দিন: পেলেদের… দ্যাাট ওয়াজ আ ডিফরেন্ট এরা। নেইমার ইজ আ ডিফারেন্ট কাইন্ড অফ প্লেয়ার, ডিফারেন্ট স্টাইল। খেলাটাও অন্য রকম। পেলেদের খেলা আর আজকের খেলা এক নয়। নেইমার ইজ ইন গুড ফর্ম ইন দিস ইয়ার। পিএসজিতে খেলছে। আমি যতগুলো খেলা দেখলাম, হি ইজ ইন গুড ফর্ম। ব্রাজিলের অনেক প্লেয়ারই আছে। রিয়াল মাদ্রিদে খেলে ভিনি জুনিয়র। হি ইজ অলসো এ গ্রেট প্লেয়ার। এরকম ব্রাজিলে আছে (ভালো প্লেয়ার) নেইমার, মেসি, রোনালদোর মত অনেকে - দিজ আর ভেরি স্ট্যান্ডার্ড প্লেয়ারস (ইন) টুডেইজ ওয়ার্ল্ড। সো দে আর এ ভেরি গুড টিম।

ভয়েস অফ আমেরিকা: মেসির তো বয়স হয়েছে। বয়স্ক লিডারশীপের হাত ধরে আর্জেন্টিনার খেলাটাকে কিভাবে দেখছেন?

কাজী সালাউদ্দিন: বয়স হিসেবে ওর বয়স হয়েছে, তা সত্যি। কিন্তু ও যেভাবে লিগে খেলছে (এখনও), মানে মেসির টপ থেকেও যখন টেন টুয়েন্টি পার্সেন্ট নামছে, স্টিল হি ইজ ওয়ান অব দ্যা টপ প্লেয়ারস ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড। সো এজ উইল নট অ্যাফেক্ট হিম। এইটা এডভানটেজও হতে পারে। মোর ম্যাচিউরড। এটাতো আমরা এডজ্যাক্টলি দেখতেছি। ফিজিকালি হি ইজ ডাউট (ফ্যাক্টর), বয়সে। আরেকদিকে দেখেন তার মেচিউরিটি। ৩-৪ টা ওয়ার্ল্ডকাপ খেলেছে, ইউরোপিয়ান ক্লাবে খেলেছে। যেসব ক্লাবগুলোতে খেলে আসছে… হি হ্যাজ ওন এভেরিথিং। সো, এটারতো পজেটিভ দিকও আছে।

ভয়েস অফ আমেরিকা: আর্জেন্টিনা ওয়ার্ল্ডকাপ নিলে কি আপনি খুশি হবেন মেসির জন্য?

কাজী সালাউদ্দিন: কেউ ওয়ার্ল্ডকাপ জিতলে আমার খুশি অখুশির কিছু নাই। আমি শুধুমাত্র একজন দর্শক। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোন টিম ইজ এ সেকেন্ড টিম। মেসি আমার এখানেই আছে (আমার অফিসে মেসির ছবি ঝুলছে)। তারপরও, আর্জেন্টিনা জিতুক বা যে-ই জিতুক, ইট ডাজেন্ট ম্যাটার টু মি বিকজ, বাংলাদেশ না তো!

ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনি একটা ইন্টারভিউয়ে বলেছিলেন, ২০২২ সাল নাগাদ বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ডকাপে যাবে। তারপর আবার একটা ইন্টারভিউয়ে বললেন, সে জায়গায় এখনও যায়নি। এখন কি মনে হয়, কবে বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ডকাপ খেলতে পারবে?

কাজী সালাউদ্দিন: আমি ২০২২ এ ওয়ার্ল্ডকাপ কোয়ালিফাই করবো, বলেছিলাম। কারেক্ট। কিন্তু কি পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলাম? যে, আমরা এই কাজ আরম্ভ করেছিলাম, উই হ্যাড এ ভিশন। আপনার যদি ভিশন না থাকে, তাহলে আপনি খামাখা এত রাস্তায় দৌড়ে লাভ নাই। সো আই থট উই উইল বি এবল টু ডু দ্যাাট। কিন্তু আমি যখন আমি যখন (ফুটবল) ফেডারেশনের ভিতরে ঢুকি, এসে আমি দেখলাম, ফেডারেশনে বেসিকলি কিছুই নাই, খালি ফেডারেশনের নামই আছে। নাইদার ফান্ড, নর কোচেস - কিচ্ছু নাই। ইট ওয়াজ এন এম্পটি শেল অফ এ বিল্ডিং। সো, দ্যাাট ইজ হোয়াই ইট টুক সো মাচ টাইম। প্রথমে তো খেলাই ছিল না। সো আই মেড শিওর লিগ আছে। আমি যতবছর ধরে আছি লিগ আছে। অল দ্যা লিগস আর দেয়ার। দেন উই স্টার্টেড উইমেনস ফুটবল। উইমেনস ফুটবল যখন স্টার্ট করি, (তার কয়েক বছর পর) সাউথ এশিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে। ছেলেদের আরো টাইম লাগবে বিকজ আমি যা দেখলাম, ছেলেরাতো ক্লাব বেজড। দে ডু নট গিভ হান্ড্রেড পারসেন্ট (ফর দ্যা কান্ট্রি)। বিকজ তারা প্রফেশনাল, তারা নিজেদের প্রটেক্ট করে খেলে। কারণ সামনের বছর ইনজুরড হলে পয়সা পাবে না। আর ন্যাশনাল টিম কোন পয়সাকড়ি দেয়না। সো দেয়ার আর লটস অব ফ্লজ। আমি বাইরে থেকে যখন চিন্তা করেছি, ইট ওয়াজ এ ডিফারেন্ট স্টোরি। ভেতরে এসে দেখি ডিফারেন্ট স্টোরি।

ভয়েস অফ আমেরিকা: এখন তো অনেকদিন ভেতরে আছেন, এখন ফিজিবল টার্গেট কী হতে পারে?

কাজী সালাউদ্দিন: এখন লজিক্যাল যেটা টার্গেট হবে, রিসেন্টলি উই আর অ্যাপ্লাইয়িং টু দ্যা গভর্নমেন্ট ফর এ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম। যদি আমরা এই ফান্ডটা পাই, তাহলে আমি মনে করি দেয়ার উইল বি ভেরি গুড পসিবিলিটি যে (বাংলাদেশ) এশিয়াতে কমপিট করতে পারব। এশিয়াতেও টপ টিম আছে তো। জাপান, কোরিয়া, কাতার - দেয়ার আর লটস অফ টপ টিমস… আমরা একটা জায়গায় যেতে পারব। বাট উইথ আউট দিস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, আই ডোন্ট থিংক ইটস পসিবল।

ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনি যখন ফুটবল খেলতেন তখন বাংলাদেশ ফুটবল টিম কেমন ছিল?

কাজী সালাউদ্দিন: টু বি ভেরি অনেস্ট, এখনকার ন্যাশনাল টিম ইজ এ বেটার ন্যাশনাল টিম দেন এনি। আমরা যখন খেলতাম, এখন আমরা যেটাকে বলি স্মরণীয় অতীত, স্মরণীয় যুগ… আমি এগ্রি করিনা। কারণ কী? তখন ছিল মাঠে ক্রাউড। কয়েকটা প্লেয়ারকে দেখতে, কয়েকটা টিমকে দেখতে সাপোর্টার রেগুলার মাঠে আসতো। এবং তখন মানুষদের অভ্যাসই ছিল মাঠে আসা। আমরা কিন্তু খুব বড় ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ খেলিনি। ডোমেস্টিক ফুটবল, আগা খান গোল্ডকাপ, প্রেসিডেন্ট কাপ এগুলো খেলেছি। তখন ক্লাবগুলো ছিল। ন্যাশনাল টিম নেভার হ্যাড এ পারফরমেন্স। বাট ডিফরেন্সটা কোন জায়গায়? আগে আমরা বহুতবার সাত গোল, দশ গোল খেয়েছি। আজ আমরা সাত-দশ গোল খাই না। দুই তিন গোলের ব্যবধানেই খেলি। সো দিস ইজ মাচ বেটার টিম রাইট নাউ। তখন মাঠে লোক থাকত। দেয়ার ওয়াজ এ ক্রেজ অ্যাবাউট ফুটবল। ওই ক্রেজটা চলে গেছে। ঐ ক্রেজটা যাওয়ার জন্যেই দল সাত আট বছরে… ইট ওয়েন্ট ফ্রম নাইন্টি নাইন ফাইভ থেকে টু থাউজেন্ড ফোর-ফাইভ পর্যন্ত - এই ক্রেজটা মাঠে খালি হয়ে গিয়েছে। আমি যখন আসি, তখন তো ফুটবল লিগই ছিল না। সো আই ওয়ান্টেড টু ব্রিং ইট ব্যাক। সো আমাদের সময়ের কথা সবাই বলে, বাট ইটস নট কারেক্ট। বিকজ আমরা ইন্টারন্যাশনাল খেলতামই চারটা পাঁচটা। পাঁচ গোল, সাত গোল পর্যন্ত দিত অন্য দলগুলো। মিডিয়া ছিল না, প্রেস এত ছিল না। ঐটা হাইলাইট হয়নি। আপনি যদি রেকর্ড দেখেন, দিস ইজ এ মাচ বেটার সাইড।

ভয়েস অফ আমেরিকা: বাংলাদেশ ফুটবল টিমের এখন নজর রাখার মত কয়েকজন প্লেয়ারের নাম বলুন।

কাজী সালাউদ্দিন: মেন্স টিমে জামাল ভূঁঈয়া আছে, ডিফেন্ডার তপু বর্মন আছে। রাকিব ইজ দ্যা আপকামিং স্টার।

ভয়েস অফ আমেরিকা: দেশে প্রফেশনাল লিগের বর্তমান অবস্থা কী? কেন বাচ্চারা ফুটবলকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ হবে?

কাজী সালাউদ্দিন: আমাদের ডোমেস্টিক লিগের প্লেয়াররা, দে আর ভেরি হাইলি পেইড। নট কম্পেয়ারেবল টু দ্যা ফরেন লিগস (অফ কোর্স, কিন্তু) লোকালি অন্য চাকরি থেকে, দে আর হাইলি পেইড। এবং লিগও আমাদের কন্টিনিউয়াস হয়। অ্যাকচুয়ালি, সাউথ এশিয়ায় বাংলাদেশ হ্যাজ ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট লিগস, ইন্ডিয়ার পরেই। এখানে ছেলেরা রিজনেবল টাকা পাচ্ছে, চল্লিশ লাখ, পঞ্চাশ লাখ - বা বছরে আরো বেশিও পায়, কমও পায়। সো, মানি ইজ হিয়ার নাউ। এখন ওই ডেডিকেশনটা যদি ছেলেদের থাকে যে আমি অনেক বছর খেলব… এবং এখানে আরো ভালো খেলতে পারলে দেখেন, (দে ক্যান) গো টু ফরেন লিগস। ইন্টারন্যাশনালি এখন বিরাট মার্কেট (ফুটবলের)। আমাদের সময় তো এশিয়াতে একটাই দেশ ছিল, হংকং, হুইচ ওয়াজ ভেরি প্রফেশনাল। এখন তো সব দেশেই প্রফেশনাল (লিগ খেলা হয়)। সো এই জিনিসটা ওরা যদি মাথায় নিয়ে খেলে যে, আমরা ঢাকা লিগের বাইরে চলে যাব, তাহলে দে ক্যান মেক লটস অফ মানি।

ভয়েস অফ আমেরিকা: ইংল্যান্ডও একটা ছোট দেশ কিন্তু। বাংলাদেশেরও একটু ছোট আয়তনে। ওখানে কনফারেন্স লিগ যেটা, লিগ টু বা চতুর্থ ডিভিশনের পরে, সেখানে খেলেও মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। বাংলাদেশে প্রিমিয়ার লিগের বাইরে বেতন কাঠামো এমন কেন?

কাজী সালাউদ্দিন: আমাদের দেশে, ম্যাক্সিমাম (মানুষই) আমরা বলি যে আমরা স্পোর্টস লাভার্স। উই আর নট স্পোর্টস লাভার্স। উই আর বেসিক্যালি টক শো লাভার্স! হঠাৎ টেলিভিশনে এসে মানুষ একদম বড় লিডার (বনে যায়), সবকিছু জানে, এভাবে ইন্টারভিউ দেয়। আমি বহু দেখেছি (এমন) ইন্টারভিউ। (কিন্তু) জীবনে কখনো মাঠে আসেনি। তো আমাকে একজন একদিন বলছিল, খুব নামকরা লোক, “এই, ফুটবলের অবস্থা কি?” আমি জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কি মাঠে এসেছেন?” বলে, “না টিভিতে শুনলাম।” তো আমি বলি, “আপনি আসেন। দেখেন। দেন ইউ পার্টিসিপেট।” আর ক্লাবগুলোতে সেকেন্ড থার্ড ডিভিশনে যারা টিম চালায় - খুব অর্ডিনারি পিপলরা চালায়। তারা টাকা জোগাড় করতেই শেষ হয়ে যায়। সেজন্য বিগ হাউজেস আর নট কামিং হিয়ার। বসুন্ধরা আসছে, বেক্সিমকো আসছে। এরকম দুই একটা বিগ হাউস। আর কেউ আসে না। জাপান-কোরিয়ায় আপনি টিভি খুললেই খেলা হলে দেখবেন হুন্দাইয়ের অ্যাড। স্যামসাং আছে। হুন্দাই ইজ ওয়ান অব দ্যা মেইন স্পন্সর অফ ফুটবল ইন কোরিয়া। তারপর জাপানের হোন্ডা, মিতসুবিসি। সো, এই ম্যাসিভ সাপোর্টটা আছে। যেটা আজকে ইন্ডিয়াতে শুরু হয়ে গেছে। বাট আমাদের এখানে বিগ হাউজেস - ওরা এখানে আসে না। ওরা মাঝে মাঝে কিছু টাকা খরচা করে সাত দিনের টুর্নামেন্ট, ১৫ দিনের টুর্নামেন্ট, ক্রিকেট, টি-টোয়েন্টি (এসবে)। তাতে টেলিভিশনে একটু দ্যাখায় দ্যাখায় শেষ। লং টার্মে ওনলি বেক্সিমকো এবং বসুন্ধরা - দুই হাউস ছাড়া আমি কোন টপ হাউস দেখিনা, ওদের কোন ইন্টারেস্ট নেই। আই উড রিকোয়েস্ট দ্যা টপ হাউজেস (টু ইনভেস্ট ইন ফুটবল)। দ্যাাট ইজ অলসো দেয়ার পার্ট অফ নেশন ডেভেলপমেন্ট।

ভয়েস অফ আমেরিকা: ক্রিকেটের কারণে এ অঞ্চলে ফুটবল প্রায় ধামাচাপা পড়ে গেছে। সাফের প্রধান হিসেবে আপনি সাফভুক্ত দেশগুলোর ফুটবলের ভবিষ্যৎ কী দেখছেন?

কাজী সালাউদ্দিন: ফুটবল ইজ এ ভেরি ডিফিকাল্ট গেম। ফুটবল ইজ গেম হুইচ ইজ প্লেইড বাই টু হান্ড্রেড অ্যান্ড ইলেভেন কান্ট্রিজ। সো এটাকে সাকসেসফুল হওয়া ইজ এ ভেরি ডিফিকাল্ট টাস্ক। ইউ হ্যাভ টু স্পেন্ড লট অব মানি ফর ডেভেলপমেন্ট, ট্রেনিং, স্পোর্টস ফেসিলিটিজ। ক্রিকেটটা হয়েছে কী… ইন্ডিয়ান কর্পোরেট হাউজ ইজ একচুয়েলি ক্রিকেটটাকে ওয়ার্ল্ড ধরে নিয়েছে। ক্রিকেট খেলে মাত্র ১২-১৩ টা দেশ। আমাদের এই কমনওয়েলথ কান্ট্রি কিছু, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড…দ্যাট ইজ, যেসব দেশগুলোতে ইংলিশ প্রভাব আছে। আর আমাদের দেশে ভাল হয় কেন, আমরা এখানে কমপিট করতে পারি। সাতটা আটটা দেশ তো, আমরা এখানে কম্পিট করতে পারি। ১৯৬২ সালে ইন্ডিয়া ওয়াজ এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন অফ ফুটবল। ইন্ডিয়ার মোহনবাগান মাঠে ৫০ হাজার লোক হত। এখন যেখানে ক্রিকেট খেলে ইডেন গার্ডেনে, সেখানে ফুটবল খেললে হাউজপ্যাকড থাকত, ক্রিকেট খেলা হলে অর্ধেক থাকত। আজকে যেটা হয়েছে, আজকে ইন্ডিয়া পারে না ওয়ার্ল্ড ফুটবলের সাথে। না পেরে… এভরিওয়ান ওয়ান্টস টু বি এ চ্যাম্পিয়ন। ক্রিকেট খেললে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায়। সাতটা আটটা দেশই তো, ইজি গেম। পাবলিক তখন সাপোর্ট করে, চ্যাম্পিয়ন হলেই সাপোর্ট করে। আর ক্রিকেট হল গিয়ে সারাদিনের খেলা। টিভিতে আপনি সারাদিন অ্যাড দিতে পারেন, এজন্য অল কর্পোরেট হাউজেস আর বিহাইন্ড দেম। দিস ইজ ওয়ান অব দ্যা বিগ রিজন ফুটবল এখন ইন্ডিয়াতে আগের মত পপুলার না। বাট দে আর ওয়ার্কিং হার্ড। আই থিঙ্ক এনাদার ফাইভ সিক্স ইয়ারসের মধ্যে ইন্ডিয়া উইল অলসো বি এশিয়াতে রিজনাল পাওয়ার ইন ফুটবল। কারণ তাদের ফাইন্যান্সটা আছে।

ভয়েজ অব আমেরিকা: তাহলে, এত টানা-পোড়েনের মাঝেও নারী ফুটবল দলের সাফল্য কিভাবে এল?

কাজী সালাউদ্দিন: নারী ফুটবলটা, ইজ সামথিং দ্যা বিএফএফ হ্যাজ ওয়ার্কড ভেরি হার্ড (অন)। একচুয়ালি, যখন নারী ফুটবলের চেয়ারম্যান মাহ্‌ফুজা আক্তার কিরণ আমার সাথে বসে প্রথম বলল যে, আমরা নারী ফুটবল চালু করতে চাই, আই ওয়াজ (এ) লিটল বিট স্কেপটিকাল যে এটা কতখানি হবে। দেন শি স্টার্টেড ইট, আমরা সাপোর্ট দিতে আরম্ভ করলাম। নারী ফুটবলের সবচাইতে বড় সুবিধা হল, হোম গ্রোন প্লেয়ার এরা। এরা আমার অ্যাকাডেমিতে (তৈরি)। এরা ক্লাবের কাছে থাকে না, আমার কাছে থাকে। খাওয়া-দাওয়া, পড়া, থাকা - আমরা দেখাশোনা করি। উই হ্যাভ এ টেকনিক্যাল ফরেন স্টাফ, আমাদের চেয়ারম্যান কিরণ, শি ওয়ার্কস টুগেদার উইথ দেম। সো, ইটস লাইক এ ক্লাব। দেশটাকেই আমরা একটা ক্লাবের মত বানিয়ে ফেলেছি। সো দ্যাট ইজ হোয়্যার দ্যা সাক্সেস কামস (ফ্রম)।

XS
SM
MD
LG