মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট কেনিয়ায় স্ব-নির্বাসনে থাকাকালীন সম্মানিত একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের “নৃশংস হত্যা”র একটি দৃশ্যত দুর্বল সরকারি তদন্তের যাচাই করা শুরু করেছে।
গত অক্টোবরে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির বাইরে একটি চেকপয়েন্টে পুলিশ অফিসাররা রহস্যজনক পরিস্থিতিতে ৫০ বছর বয়সী আরশাদ শরীফকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। সেখানে এটিকে গাড়ি ছিনতাইয়ের জন্য “ভুল পরিচয়ের” মামলা বলে দ্রুত ঘোষণা করা হয়েছিল।
জুলাই মাসে পাকিস্তান থেকে কেনিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার আগে শরীফ বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় টিভি চ্যানেল এআরওয়াই নিউজের জন্য জনপ্রিয় একটি প্রাইম-টাইম টিভি রাজনৈতিক টক শোর উপস্থাপনা করতেন। শরীফ তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করার পরে তার জীবনের হুমকির কথা উল্লেখ করেছিলেন।
তার হত্যাকাণ্ডের জন্য কারা দায়ী তা চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি নিয়ে পাকিস্তানে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
পাকিস্তানি তদন্তকারীরা গত মাসে কেনিয়া পরিদর্শন করার পর বলেন, শরীফ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার, দুর্ঘটনাজনিত গুলিতেঁ তার মৃত্যু হয়নি।
শরীফের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাগুলো এমন অভিযোগ থেকে উদ্ভূত হয়েছিল যে, তিনি তার শোতে একজন বিরোধী রাজনীতিবিদের সাক্ষাতকারকে অতিরঞ্জিত করে প্রদর্শন করেছিলেন, যা কথিতভাবে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীকে বিদ্রোহে প্ররোচিত করেছিল।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং নিহত সাংবাদিকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রশ্নবিদ্ধ ওই রাজনীতিবিদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
খুন হওয়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা ১২টির বেশি মামলার বিষয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। অনেকে এগুলোকে মিথ্যা মামলা বলে মনে করেন। মামলাগুলো শরীফকে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছিল।
আরএফএস-এর ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইন্ডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তান ১৫৭তম স্থানে রয়েছে।