অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর আন্তর্জাতিক নিন্দা এবং আরও বিক্ষোভের মুখে ইরান


সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোশিয়ায় এক ব্যক্তি তার মোবাইল ফোনে ইরানের কর্তৃপক্ষ দ্বারা মোহসেন শেকারির ফাঁসির বিষয়ে একটি টুইট দেখছেন, ৮ ডিসেম্বর ২০২২।

শাসকদের নাড়িয়ে দেওয়া প্রায় তিনমাস ধরে চলা বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।এরপর দেশটি শুক্রবার আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে পড়ে।আর, এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ফলে, আরও বিক্ষোভের আহবান জানানো হয়।

মোহসেন শেকারি-কে বৃহস্পতিবার ফাঁসি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২৫ সেপ্টেম্বর তেহরানের একটি সড়ক অবরোধ করেন এবং আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্যকে আহত করেন।তাকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য যে আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, অধিকার সংগঠনগুলো সেটিকে একটি লোক দেখানো বিচার বলে আখ্যায়িত করে এবং সেই প্রক্রিয়ার প্রতি নিন্দা জানায়।

দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে যে, ২৩ বছর বয়সী ঐ ব্যক্তি বাসিজ বাহিনীর এক সদস্যকে একটি দা দিয়ে আঘাত করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। ঐ আঘাতের ফলে বাসিজ সদস্যকে ১৩টি সেলাই দিতে হয়।বাসিজ হল ইরানের শক্তিশালী রেভোল্যুশনারী গার্ডের সাথে সম্পর্কিত একটি আধাসামরিক বাহিনী।

মৃতুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং অধিকার গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করে যে আরও ফাঁসি আসন্ন ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে যে, এমন মৃত্যুদণ্ডে তারা “আতঙ্কিত” এবং একটি “অত্যন্ত অন্যায্য লোক দেখানো বিচার” যার মাধ্যমে শেকারিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।


অসলো ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর)-এর পরিচালক, মাহমুদ আমিরি-মোঘাদ্দাম একটি কড়া আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে করে ইরানকে এ ধরণের আরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর থেকে বিরত রাখা যায়।

তিনি বলেন, “মোহসেন শেকারিকে [তার পক্ষে] কোন আইনজীবি ছাড়াই একটি তড়িঘড়ি ও অন্যায্য বিচারের পর ফাঁসি দেওয়া হয়।”

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ২৪ ঘন্টা পর,পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে, শেকারিকে তেহরানের বেহেশত-ই জাহরা কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। ১৫০০তাসভির নামে একটি সামাজিক মাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী এমন খবর জানিয়েছে।

শেকারির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায়, ইরানে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে এবং আরও বিক্ষোভের আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেকারিকে যেখান থেকে আটক করা হয়েছিল, রাতে বিক্ষোভকারীরা সেই সড়কে নেমে আসেন।আর, তারা এই বলে স্লোগান দেন যে, “তারা আমাদের মোহসেনকে নিয়ে যায়, ফিরে আসে তার মরদেহ নিয়ে।” ১৫০০তাসভির এর শেয়ার করা এক ভিডিও চিত্রে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

অন্যান্য এলাকার মতো তেহরানের চিটগড় এলাকাতেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এখানেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি এবং ইরানের রেভোল্যুশনারী গার্ডের বিরুদ্ধে, “স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই” এবং “সেপাহ-এর মৃত্যু চাই” বলে স্লোগান দেয়া হয় ।

হামেদ ইসমাইলিয়ন নামের ইরানী কানাডিয়ান এক সক্রিয়কর্মী বার্লিন, প্যারিস ও অন্যান্য শহরে গণপ্রতিবাদের আয়োজন করেন।তিনি জানান যে, এই সপ্তাহান্তে আরও প্রতিবাদের আয়োজন করা হবে।


XS
SM
MD
LG