অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সৌদি আরব সফরে আরব সম্মেলন আয়োজন করবেন চীনের শি জিনপিং


সৌদি রাষ্ট্রীয় টিভি’র ফুটেজ থেকে নেওয়া এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের পাশে দাঁড়িয়ে চীনের জাতীয় সংগীত শুনছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ৮ ডিসেম্বর ২০২২।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিভিন্ন সম্মেলনে শুক্রবার আরব নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। এর আগে তিনি সৌদি আরবের সাথে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করে দেশ দুইটির মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করেন। চুক্তিগুলো এমন সময়ে হল যখন বিশ্বের সর্বোচ্চ তেল রফতানীকারক দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের এই নেতা তার সফরটির তৃতীয় ও শেষদিনে আঞ্চলিক শাসকদের সাথে বৈঠকে বসবেন। করোনাভাইরাস মহামারী আরম্ভ হওয়ার পর থেকে এটি চীনের বাইরে তার তৃতীয় সফর মাত্র।

বাদশাহ সালমান এবং তার ৩৭ বছর বয়সী পুত্র ও কার্যত দেশটির শাসক, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এর সাথে আলোচনার পর, দুই পক্ষই জ্বালানী তেলের বাজারে “স্থিতিশীলতার গুরুত্বের” উপর জোর দেন। এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সৌদি আরবের দ্বন্দ্বের একটি কারণ। যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে অনুরোধ করেছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে, তারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় “উৎসের পরিবর্তে নিঃসরণের উপর মনোযোগ” দেওয়ার কথা বলেন। জ্বালানী সমৃদ্ধ আরব রাজতন্ত্রগুলো এই পন্থাটি প্রচার করে আসছে।

আবাসন থেকে আরম্ভ করে চীনা ভাষা শিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে ছেচল্লিশটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের ঘোষণা দেওয়া হয়। সহযোগিতা ‍বৃদ্ধির মাধ্যমে দুইপক্ষই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে, চুক্তির বিষয়গুলো সম্পর্কে খুব সামান্যই বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও, সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার জানায় যে, শি এর সফরকালে প্রায় ৩,০০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণের চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।

ছয়টি সদস্যদেশ সম্বলিত জ্বালানী সমৃদ্ধ গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এর সাথে শুক্রবার আলোচনায় বসবেন শি। এছাড়াও একটি বৃহত্তর চীন-আরব সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করবেন তিনি।

এই আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সহযোগী। দেশগুলো তাদের জীবাষ্ম জ্বালানী নির্ভর অর্থনীতিগুলোকে বহুমুখী করতে পূর্ব অভিমুখে যোগাযোগ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে চীনের সাথে নিজেদের সম্পর্ক জোরদার করছে।

একইসাথে, চীনও নিজেদের কোভিড লকডাউনের কারণে অর্থনীতির বেহাল দশা কাটিয়ে উঠে নিজেদের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ও তাদের প্রভাবের বলয় বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে। উল্লেখযোগ্যভাবে তারা তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে তা করার চেষ্টা করছে, যা কিনা বিশ্বজুড়ে অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করে থাকে।

কর্মকর্তারা শুক্রবারের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে সামান্যই তথ্য প্রদান করেছেন। কিন্তু আলোচনার একটি সম্ভাব্য বিষয় চীন-জিসিসি মুক্তবাণিজ্য চুক্তিটি হতে পারে, যা নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে আলোচনা চলছে।


XS
SM
MD
LG