বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, “চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয়-সংকট, নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে তা আরও বেড়ে যাওয়া; কোনো কিছুই পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়ন হ্রাস বা অন্য কোন সিদ্ধান্তের অজুহাত হতে পারে না।”
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। রবিবার (১১ ডিসেম্বর) লোকালি লেড অ্যাডাপ্টেশন (এলএলএ) এর গ্লোবাল হাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ড. মোমেন এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, “গ্লোবাল হাবের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশ সরকার গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনকে (জিসিএ) পূর্ণ সহায়তা দিতে প্রস্তুত।” তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে জিসিএ গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে কাজ করতে পেরে আনন্দিত বোধ করছি। সত্যিই ঢাকায় এই জিসিএ আঞ্চলিক অফিসের গ্লোবাল হাবের উদ্বোধনের আয়োজন একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। শিগগিরই আমরা অন্যান্য আয়োজন করার পরিকল্পনা করছি।”
গ্লোবাল হাব প্রতিষ্ঠায় সহায়তার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, “আমি আশা করি যুক্তরাজ্যকে অনুসরণ করে অন্যান্য দেশ/প্রতিষ্ঠানগুলো উদার অর্থায়নে এগিয়ে আসবে।”
“প্রতি বছর বাংলাদেশের ছয় লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং নদী ভাঙনের কারণে তাদের ঘরবাড়ি, তাদের পূর্বপুরুষের পেশা থেকে উৎখাত হচ্ছে। তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিচ্ছে সরকার, যদিও তাদের উৎপাটনে সরকারের কোন ভূমিকা নেই;” জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে যে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ২০ শতাংশ প্লাবিত হবে এবং কয়েক লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর থেকে বাস্তুচ্যূত হবে। ড. মোমেন বলেন, “যদি কয়েক লাখ লোক তাদের বাড়িঘর থেকে বাস্তুচ্যূত হয়, তবে এটি একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি করবে। এমন পরিস্থিতি হওয়ার আগে আমি বিশ্ব নেতাদের তাদের পুনর্বাসনের দায়, ভাগ করে নিতে এবং এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে অনুরোধ করব।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, “জিসিএ-এর সঙ্গে আমাদের যাত্রা প্রতিশ্রুতিপূর্ণ ও অগ্রগতিশীল। এটা দেখে আমি আনন্দিত যে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে জিসিএ ও বাংলাদেশ সরকার অভিযোজন কার্যক্রম গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশ এই গ্লোবাল হাবের মাধ্যমে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে ভাসমান কৃষি, বৃষ্টির জল সংগ্রহ, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, জলবায়ু প্রতিরোধী ফসলের জাতগুলোর মতো ঘরোয়া সমাধানগুলো বিনিময় করতে প্রস্তুত।”