অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জাপানের আইস্পেস মহাকাশে প্রথম বাণিজ্যিক চন্দ্রযান পাঠিয়েছে


আইস্পেসের হাকুতো-আর অভিযানের কর্মকর্তারা টোকিওতে বসে লাইভ ব্রডকাস্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কেপ ক্যানাভেরাল মহাকাশ স্টেশন থেকে স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯ রকেট উৎক্ষেপণ উপভোগ করছেন (১১ ডিসেম্বর, ২০২২, রয়টার্সের মাধ্যমে কিয়োদো থেকে পাওয়া)।

বেশ কয়েকবার বিলম্বিত হওয়ার পর অবশেষে রবিবার জাপানের একটি মহাকাশ স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান চাঁদের উদ্দেশ্যে একটি মহাকাশযান পাঠিয়েছে। একটি জাতি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি একটি নজিরবিহীন প্রথম উদ্যোগ।

ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে কোনো ধরনের অঘটন ছাড়াই আইস্পেসের হাকুতো-আর অভিযান শুরু হয়। এর আগে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট পরিদর্শনের সময় ২ বার এই অভিযান বিলম্বিত হয়।

গত ৫০ বছরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা চাঁদে মহাকাশযান অবতরণ করাতে সক্ষম হলেও এর আগে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এতে সফল হয়নি।

এই অভিযান সফল হলে তা জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ অংশীদারিত্বে নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি এমন এক সময় অর্জিত হতে যাচ্ছে, যখন চীন খুব দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে চলে আসছে এবং ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে মহাকাশে পাঠানোর জন্য রাশিয়ার রকেট পাওয়া যাচ্ছে না।

জার্মানিতে অ্যাসেম্বল করা মহাকাশযানটি এপ্রিলের শেষের দিকে চাঁদে অবতরণ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

আইস্পেস প্রত্যাশা করছে, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও অসংখ্যবার এ ধরনের অভিযানের আয়োজন করা সম্ভব হবে। আইস্পেসের মহাকাশযান ব্যবহার করে চাঁদের কক্ষপথে নাসার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপগ্রহ বসানোর লক্ষ্য রয়েছে। অ্যাটলাস ক্রেটার স্পর্শ করার আগে এসব উপগ্রহের মাধ্যমে পানির উৎস খোঁজা হবে।

এম ১ ল্যান্ডার রকেট থেকে ২টি রবোট নিয়ন্ত্রিত রোভার গাড়ি চাঁদে নামানো হবে। জাপানের জ্যাক্সা মহাকাশ সংস্থার নির্মিত ২ চাকার ও বেসবল আকৃতির একটি রোভার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে নির্মিত ৪ চাকার রাশিদ এক্সপ্লোরার।

ইতোমধ্যে আইস্পেসের সঙ্গে মার্কিন সরকারি মহাকাশ সংস্থা নাসার একটি চুক্তি হয়েছে, যার মাধ্যমে ২০২৫ থেকে শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানটি মহাকাশে নাসার বিভিন্ন অবকাঠামোয়

প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সরঞ্জাম আনা নেওয়া করবে। আইস্পেসের মূল লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে একটি স্থায়ী 'চন্দ্র-উপনিবেশ' নির্মাণ করা।

XS
SM
MD
LG