অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মরক্কোর জয় আরব বিশ্বের জন্য আনন্দ বয়ে নিয়ে এলো


১০ ডিসেম্বর কাতারের দোহায় মরক্কো পর্তুগালকে বিশ্বকাপে হারানোর পর মরক্কোর সোফিয়ান বাউফল তার মায়ের সাথে জয় উদযাপন করছে।

জনগণের কণ্ঠস্বর সরকারের চেয়ে উচ্চস্বরে গর্জে ওঠাটা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিরল একটি মুহূর্ত।কিন্তু কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর বিস্ময়কর জয়ের ফলে আরব ভক্তদের মধ্যে আনন্দ এবং গৌরব জেগে উঠেছে যা অন্তত এক মুহূর্তের জন্য এই অঞ্চলের অনেক রাজনৈতিক বিভাজনকে মৃয়মান করে দিয়েছে।

২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডের অংশ হিসেবে মরক্কো সরকারের ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সত্ত্বেও এই জয়ের সম্ভবত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো ফিলিস্তিনি এবং মরক্কোর দলের মধ্যে প্রীতি উৎসব।

গত সপ্তাহে স্পেনের বিপক্ষে জয়ের পর মরক্কোর দল ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে ফিলিস্তিনিদের রোমাঞ্চিত করে।

মরক্কো প্রথম আরব এবং আফ্রিকান দল যারা বিশ্বকাপে এতদূর এসেছে; বুধবার ফ্রান্সের বিপক্ষে তারা সেমিফাইনালে খেলবে।

প্রতিটি জয়ের উত্তেজনা সীমানা এবং রাজনৈতিক বিভাজন অতিক্রম করেছে।

আলজেরিয়ানরাও উদযাপনে যোগ দিয়েছিল, যদিও তাদের সরকার গত বছর মরক্কোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। পশ্চিম সাহারা নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ চলছে। ১৯৭৫ সালে মরক্কো পশ্চিম সাহারাকে অধিগ্রহণ করে নেয়। আলজেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে সেখানে স্বাধীনতার জন্য পলিসারিও ফ্রন্টে সাহরাউইদের সমর্থন করেছিল। ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিনিময়ে সেখানে মরক্কোর সার্বভৌমত্বের যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির কারণে আলজেরিয়া ক্ষুব্ধ হয়।

আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভি এমনকি মরক্কোর জয়ের খবরও দেয়নি; তাদের প্রতিদিনের বিশ্বকাপের প্রতিবেদন থেকে এ খবর বাদ দেয়া হয়।

ফ্রান্সের সাথে সেমিফাইনাল আরও বিভেদপূর্ণ। আরব বিশ্বের বেশিরভাগ এটিকে এক প্রাক্তন উপনিবেশকে তার এক সময়ের উপনিবেশকারীকে হারানোর সুযোগ হিসেবে দেখে। কিন্তু লেবাননের কেউ কেউ ফ্রান্সের সাথে বিশেষ করে খ্রিস্টানদের সাথে সাংস্কৃতিক সখ্য অনুভব করে।

XS
SM
MD
LG