পার্লামেন্টের একজন ভাইস প্রেসিডেন্টকে জড়িয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠার পর, বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কাতারের সাথে যুক্ত আইনের সকল কাজ স্থগিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছে।
প্রসিকিউটরদের সন্দেহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভা কাইলি এবং আরও ৩ জন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিনির্ধারণকে প্রভাবিত করার জন্য বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতারের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন।
ভোটের পর, একটি সংবাদ সম্মেলনে পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা সংবাদদাতাদের বলেন, অপরাধমূলক কার্যক্রম সংক্রান্ত বেলজিয়াম পুলিশের তদন্ত গণতন্ত্রের জন্য, ইউরোপের জন্য “এবং যা কিছুর জন্য আমরা দাঁড়িয়েছি… যে বিশ্বাস গড়ে তুলতে কয়েক বছর লেগেছে” তার জন্য ক্ষতিকর।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন প্রণয়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট একটি । তারা বলেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না অভিযোগগুলো নিশ্চিত বা খারিজ করা হচ্ছে, তারা কাতার সম্পর্কিত আইনি নথিগুলোর সকল কার্যক্রম স্থগিত করবে। কার্যক্রমগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো; ভিসা উদারীকরণ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-কাতার বিমান চলাচল চুক্তি এবং ভবিষ্যত সফর পরিকল্পনা।
ইইউ আইন প্রণেতারা ৫৪১-২ ভোটে প্রস্তাবটি পাস করেছেন।তারা বলেছেন যে তারা উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের কারণে “আতংকিত”। এটি এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে একটি।
বেলজিয়ামের তদন্তকারীরা ১৯টি বাড়ি এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কার্যালয়গুলোতে তল্লাশি চালিয়েছে। তারা পার্লামেন্টের নীতি-বিতর্ককে প্রভাবিত করার জন্য কাতার বড় ধরনের ঘুষ দিয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করছে।
তদন্তের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে জানিয়েছে, অভিযানে ১৬ লাখ ডলার জব্দ করা হয়েছে এবং পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রীসের ইভা কাইলিসহ দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার এথেন্সের কর্তৃপক্ষ কাইলির সম্পদ জব্দ করেছে এবং গ্রীসে তার রাজনৈতিক দল, এই সাবেক টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। কাইলি এবং কাতারের কর্মকর্তারা কোনো রকম অন্যায়ের কথা স্বীকার করেননি।
এ প্রতিবেদনের কিছু তথ্য এপি এবং রয়টার্স থেকে নেয়া হয়েছে।