অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শুক্রবারও ইরানে প্রতিবাদ অব্যাহত ছিল; চতুর্থ মাসে গড়াল বিক্ষোভ


৯ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে প্রকাশিত ইউজিসি’র এক ভিডিও থেকে নেওয়া এই ছবিতে, ইরানের জাহেদান-এ জুম্মার নামাজের পর বিক্ষোভকারীদের মিছিল করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়। (ফাইল ফটো)

পুলিশী হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর তিনমাস পূর্ণ হওয়া উপলক্ষ্যে, শুক্রবার ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রাদেশিক রাজধানী জাহেদান-এ শতশত প্রতিবাদকারী মিছিল করেছেন। আমিনির মৃত্যু দেশটি জুড়ে সরকার বিরোধী বিশৃঙ্খলার সূচনা করে।

ভিওএ’র পার্সিয়ান নিউজ নেটওয়ার্ক বা পিএনএন এর সংগৃহীত ভিডিওগুলো সহ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা একই ধরণের অন্যান্য ভিডিও-তে দেখা যায়, সমবেত মানুষজন মিছিল করছেন ও সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। পিএনএন জানায় যে, প্রতিবাদকারীরা ইরানের রেভোল্যুশনারী গার্ড সহ দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে ইসলামিক স্টেট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে তুলনা করে সেগুলোকে কটাক্ষ করেছেন।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তা কানায় কানায় পূর্ণ করে থাকা বিক্ষোভকারীরা “এই দেশ স্বাধীনতা চায়, এই দেশ মীমাংসা চায়” বলে স্লোগান দিচ্ছেন।

সরকার কঠোর দমনের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এর ফলে শতশত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। এমন পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে ইরান।

পিএনএন, জাহেদান-এর সুন্নি ইমাম মৌলভী আবদুল হামিদ-কে উদ্ধৃত করে এও জানিয়েছে যে, গত কয়েক মাস ধরে যখন মানুষজন প্রতিবাদ করে আসছে তখন তাদের বক্তব্যে কর্ণপাত না করার জন্য শুক্রবার তিনি সরকারের সমালোচনাও করেছেন।

ইরানের কর্মকর্তারা জোর দাবি করে আসছেন যে, বিক্ষোভগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের দোসরদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

আমিনি ১৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তার কয়েকদিন আগে নারীদের জন্য দেশটির কঠোর পোশাকনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর থেকেই ইরান জুড়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ হয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত এক প্রস্তাবে বুধবার, জাতিসংঘ ইরানকে জাতিসংঘের নারী অধিকার বিষয়ক সংগঠন বা দ্য কমিশন অন দ্য স্ট্যাটাস অফ উইমেন থেকে বহিষ্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রক প্রস্তাবটিকে “অকার্যকর ও অবৈধ” হিসেবে বর্ণনা করে সেটি নাকচ করে দিয়েছে।



XS
SM
MD
LG