অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদিদের প্রতি হোয়াইট হাউজের সমর্থন


ইয়েমেনের নাগরিকরা সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার ফলাফল পরিদর্শন করছে, মার্চ ২৬, ২০২২। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সহিংসতা ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির আলোচনার মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যায়। অক্টোবরে এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তা এখনও মুলতুবি আছে। ফাইল ছবি

শুক্রবার হোয়াইট হাউজ যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব বন্ধ করার তাদের সিদ্ধান্তকে সিনেটে সমর্থন করেছে। এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ইয়েমেনে সৌদি আরবের যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের অবসান ঘটতো । হোয়াইট হাউজ বলছে এতে স্পর্শকাতর সূক্ষ্ম কূটনৈতিক আলোচনা বাধাগ্রস্ত হতো।

জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কার্বি ভিওএ-কে দেওয়া একটি সাক্ষাত্কারে বলেন, “আমরা সেই শান্তিকে স্থায়ী এবং টেকসই দেখতে চাই। তাই আমরা আমাদের কূটনীতির সাফল্য নিশ্চিত করার গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলছি। "

কার্বি বলেন, ,জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন "সাফল্যের একটি পরিমাপ অর্জন করেছে। আমরা একে নিশ্চিতভাবে টিকিয়ে রেখে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।"

এই সপ্তাহের শুরুর দিকে, প্রশাসন ভার্মন্টের নির্দলীয় সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সাথে প্রস্তাব নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করে । ঐ প্রস্তাব ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিষিদ্ধ করতো। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছ থেকে ভেটো হুমকি এবং তার সিনেট সহকর্মীদের কাছ থেকে সমর্থনের অভাব সহ তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখি হয়ে স্যান্ডার্স প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেন এবং হোয়াইট হাউজের সাথে আরও আলোচনা করতে সম্মত হন।

স্যান্ডার্স বলেন" এই প্রস্তাবের বিরোধী প্রশাসনের সাথে আমি কাজ করতে চাই। আমরা শক্তিশালী এবং কার্যকর আরও কিছু নিয়ে আসতে পারি কিনা তা দেখতে চাই,"।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্যান্ডার্সের সাথে আলোচনায়, তারা কী চান সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে অস্বীকার করেছেন।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয় যখন হুতি বিদ্রোহীরা - ইরান সমর্থিত শিয়া বিদ্রোহীরা - রাজধানী সানা দখল করে নেয়। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ওবামা প্রশাসনের লজিস্টিক ও গোয়েন্দা সহায়তায় সৌদি আরবের নেতৃত্বে উপসাগরীয় দেশগুলোর একটি জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও বিমান হামলার একটি অভিযান শুরু করে, যা কার্যত আঞ্চলিক শক্তিগুলির মধ্যে সুন্নি-শিয়া প্রক্সি যুদ্ধে পরিণত করে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে ৩,৭০,০০০ এরও বেশি মানুষ মারা গেছে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশের মৃত্যু খাদ্য, পানি এবং স্বাস্থ্য সেবার অভাবের মতো পরোক্ষ কারণে ঘটেছে।

মিখাইলো কমোদভস্কি এই প্রতিবেদনটি করেছেন।

XS
SM
MD
LG