অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দক্ষিণ আফ্রিকার এএনসি দলের নেতা হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন রামাফোসা


জোহানেসবার্গে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) এর ৫৫ তম জাতীয় সম্মেলন চলাকালীন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট ও এএনসি’র পুনর্নির্বাচিত নেতা সিরিল রামাফোসা (ডানে) এএনসি’র নবনির্বাচিত দলীয় উপনেতা পল মাশাতিলে-কে (বামে) অভিনন্দন জানাচ্ছেন, ১৯ ডিসেম্বর ২০২২।

বাস্তববাদী, ধনী ও উচ্চাভিলাষী – সিরিল রামাফোসা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষমতাসীন এএনসি দলের দলনেতা হিসেবে সোমবার পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন, যদিও কয়েকমাস ধরে তাকে তাড়া করে বেড়ানো একটি অর্থলোপাট কেলেঙ্কারি তার ভাবমূর্তিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।

প্রায় তিনদশক ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) এর উচ্চতম পদে আসীন হওয়াটি, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদ লাভের পথে একটি বড় পদক্ষেপ।

তবে, ৭০ বছর বয়সী এই নেতা ২০১৭ সালে প্রথমবার দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সময়ের চাইতে এখন অনেকটাই নড়বড়ে অবস্থানে রয়েছেন, যখন কিনা এএনসি-তে প্রবল অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। বর্ণবৈষম্য অবসানের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে দলটিকে পরিচালনা করেছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা।

২০১৮ সালে যখন রামাফোসা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তখন তিনি একটি “নতুন ভোরের” অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে কেলেঙ্কারি ও গতিহীন অর্থনীতি তার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এই মাসে এর আগে, বিরোধীদলের নেতৃত্বে তাকে অভিশংসন করার একটি প্রক্রিয়ায় তিনি বেঁচে যান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে তিনি তার খামারবাড়িতে এক চুরির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

তার সোফার গদির নিচে থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ চুরি যাওয়ার ঘটনাটির বিস্তারিত, তার সুখ্যাতিতে এক বিশাল আঘাত করে। তিনি আফ্রিকার সবচেয়ে শিল্পসমৃদ্ধ এই অর্থনীতির নেতৃত্বদানের দায়িত্বভার নেওয়ার সময়ে দুর্নীতির মূলোৎপাটনের অঙ্গীকার করেছিলেন।

রামাফোসার জন্ম ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর জোহানেসবার্গের সোয়েতো টাউনশিপে। সেটিই বর্ণবৈষম্যবিরোধী লড়াইয়ের জন্মস্থান। তারা বাবা পুলিশে কর্মরত ছিলেন এবং তার মা ছিলেন গৃহিনী। রামাফোসা দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখে আসছিলেন, তবে এক দীর্ঘ ভিন্ন পথ পাড়ি দেওয়ার পরই তা অবশেষে বাস্তবে রূপ নেয়।

XS
SM
MD
LG