বাংলাদেমের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে-বিজিবি সদস্যদের, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান রোধ; মাদক, নারী ও শিশু পাচার আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনসহ সীমান্তবর্তী জনগণের জানমাল রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। বিজিবি সদস্যরা তাদের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন বলে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানী ঢাকার বিজিবি সদর দপ্তরে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিবস-এর কুচকাওয়াজে ভাষণ দিচ্ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল বিনিময়ের সময় সীমান্তরক্ষীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। উৎসবের পরিবেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় করে আমরা বিশ্বের জন্য একটি উদাহরণ তৈরি করেছি।”
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সময়, বিজিবি বাস্তুচ্যুতদের নিবন্ধনসহ তাদের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তার শাসনামলে বিজিবির আধুনিকায়ন-এ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার বিজিবির সংস্কার উদ্যোগের আওতায়, বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে এবং একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এখন বিজিবি একটি দক্ষ, শক্তিশালী, আধুনিক ত্রিমাত্রিক বাহিনীর সাংগঠনিক রূপ পেয়েছে। বিজিবি এখন স্থল, জল ও আকাশে তার দায়িত্ব পালনে সক্ষম।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজিবিকে একটি বিশ্বমানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তার সরকার 'বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ভিশন-২০৪১' গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “নিরবিচ্ছিন্ন নজরদারি এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় স্মার্ট ডিজিটাল নজরদারি এবং কৌশলগত বর্ডার রেসপন্স সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন যে বিজিবিতে উন্নত ও যুগোপযোগী অস্ত্র ও সরঞ্জাম যোগ করার কারণে এর পরিচলন সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বর্তমান সরকার পার্বত্য সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে মোট এক হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রথম পর্যায়ে ৩১৭ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে।”
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের এক লাখ ৪০ হাজার পাঁচটি সীমানা পিলার থেকে ‘পাক’ বা ‘পাকিস্তান’ শব্দগুলো তুলে ফেলে সেগুলোর জায়গায় ‘বাংলাদেশ’ বা ‘বিডি’ লেখার জন্য বিজিবিকে ধন্যবাদ জানান।
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির পুনরাবৃত্তি নয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার সরকার গঠনের মাত্র ৫২ দিন পর, একটি অকল্পনীয় ট্রাজেডি ঘটে। গোটা জাতি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনও চায় না।
শেখ হাসিনা বলেন, “শৃঙ্খলা ও চেইন অফ কমান্ড হল যেকোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি। কখনও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন না। অর্পিত দায়িত্ব পালন করুন এবং চেইন অফ কমান্ড অনুসরণ করুন।” তিনি ট্রাজেডির দিন যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।