জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধানী মিশনের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছেন,যারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানের মারাত্মক দমন-পীড়নের তদন্ত করবে।
আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত ফেডেরিকো ভিলেগাস, যিনি ৪৭ দেশ বিশিষ্ট জেনেভা ভিত্তিক মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রধান, মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের আইনজীবী সারা হোসেন তিন সদস্যের এই কমিশনের সভাপতিত্ব করবেন। যার মধ্যে পাকিস্তানের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহীন সরদার আলী এবং আর্জেন্টিনার মানবাধিকার আইনজীবী ভিভিয়ানা ক্রিস্টাচিভিকও রয়েছেন।
গত ২৪ নভেম্বর কাউন্সিল এক বিশেষ অধিবেশনে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানের দমন-পীড়নের নিন্দা জানায়। তারা এই মারাত্মক দমন-পীড়নের তদন্তের জন্য একটি আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধানী মিশন গড়ে তোলার পক্ষে ভোট দেয়। তথাকথিত নৈতিকতা পুলিশ ২২ বছর বয়সী এই তরুনী ছাত্রীকে সঠিকভাবে হিজাব না পরার কারণে অন্যায়ভাবে আটক করেছিল। পুলিশের হেফাজতে তার মৃত্যুর পর গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে।
এই তিন নারী কমিশনারকে ইরানে 'বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে' বিক্ষোভের সাথে সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তাদের প্রমাণ সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং সেসব সংরক্ষণ করার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে । ২০২৩ সালের জুনে তারা মানবাধিকার কাউন্সিলে একটি মৌখিক প্রতিবেদন নিয়ে রিপোর্ট করবে এবং ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তাদের সম্পূর্ণ ফলাফল উপস্থাপন করবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় কমপক্ষে ৪৭১ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন শিশুও রয়েছে। ১৪ হাজারের বেশি লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, এবং আরও বেশ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি করা হয়েছে।
গত মাসে এই তথ্য অনুসন্ধানী মিশন অনুমোদন পেলে জেনেভায় ইরানের দূত মানবাধিকারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে দোষারোপ করেন।
সোমবার বছর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, বিক্ষোভের বিষয়ে ইরান সরকারের প্রতিক্রিয়া “পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য”। তিনি বলেন, তিনি “মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘনের” তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন এবং বিষয়টি সরাসরি ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে উত্থাপন করেছেন।