অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নারীশিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে আফগানদের ত্রাণ সহায়তায় ক্ষতি না করে তালিবানকে বিচ্ছিন্ন করার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে তালিবানের সদস্যরা পাহারা দিচ্ছে। ২১ ডিসেম্বর, ২০২২। ফাইল ছবি।
কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে তালিবানের সদস্যরা পাহারা দিচ্ছে। ২১ ডিসেম্বর, ২০২২। ফাইল ছবি।

যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন একজন কূটনীতিকের মতে, আফগানিস্তানের তালিবানের মেয়েদের শিক্ষা স্থগিত করার মতো “ভয়াবহ খারাপ” সিদ্ধান্তের জন্য তাদেরকে আরও বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত কী ব্যবস্থা নেয়া যায় তা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনের প্রধান কারেন ডেকার বুধবার সন্ধ্যায় এই সতর্কতা জারি করেন। ইসলামপন্থী শাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সমস্ত আফগান সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার স্থগিত করার একদিন পরে এই সতর্কতা জারি করা হয়।

ডেকার বলেন, মেয়েদের শিক্ষা স্থগিত করার এই অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে তালিবানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন নিশ্চিত করবে যে, আফগানরা যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়ে।

বারবার প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও যে তালিবান সমস্ত আফগানের মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে, তারা জনজীবন থেকে নারীদেরকে ক্রমাগতভাবে বাদ দিয়েছে।তারা নারীদেরকে জনসমক্ষে তাদের মুখ ঢেকে রাখতে এবং পুরুষ আত্মীয়দের সঙ্গে না নিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে যেতে নিষেধ করেছে এবং দীর্ঘ সড়ক ভ্রমণে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

পার্ক, ব্যায়ামাগার এবং স্নানাগারের মতো জনপরিসর থেকে নারীদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বেশিরভাগ নারী সরকারি কর্মকর্তাকে বাড়িতে অবস্থান করতে বলা হয়েছে বা চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির উপরের কিশোরীদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তালিবান তাদের শাসনব্যবস্থার স্বপক্ষে বলেছে, এ সকল বিধিনিষেধ ইসলামি আইন বা শরিয়ার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

এর আগে ইসলামপন্থী তালিবান যখন ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে শাসন করেছিল, তখন নারী শিক্ষা এবং নারীদের জন্য বেশিরভাগ কর্মসংস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং নিয়মিতভাবে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

XS
SM
MD
LG