বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে অস্থির বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি এবার দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। দশমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর, রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) গণভবনে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “একজনের এতবার (নেতৃত্ব) দায়িত্ব নেওয়া ঠিক নয়। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আপনাদেরকে বিবেচনা করতে হবে যে আমার বয়স হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা শুধু জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি। এটাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দলকে শক্তিশালী করতে হবে। এটা আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ।”
তিনি প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয়ভাবে ইউনিট অফিস স্থাপন করতে না পারলে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তাদের সাহায্য করবে বলে জানান তিনি। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে, উৎপাদন বাড়াতে দেশের প্রতি ইঞ্চি আবাদি জমি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী উল্লেখ করেন যে কোভিড-১৯ মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক মন্দা পুরো বিশ্বকে গ্রাস করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, “অনেক ধনী দেশ ইতোমধ্যেই মন্দার কথা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশকে সে অবস্থায় আটকা পড়া চলবে না। আমরা যদি অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন করতে পারি, তবে আমরা আমাদের নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে অনেক দেশে রপ্তানি করতে পারব।”
শেখ হাসিনা নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আমরা আটটি বিভাগের জন্য আটটি নতুন টিম গঠন করব, তাদের দায়িত্ব হবে নতুন সদস্য নিয়োগে দেখাশোনা করা।”
শেখ হাসিনা আরও বলেন, “আওয়ামী লীগই একমাত্র সংগঠন, যারা এদেশের মাটি ও জনগণ থেকে গড়ে উঠেছে। অথচ বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সামরিক শাসকদের পকেট থেকে এসেছে। যারা দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছে; জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।”
শেখ হাসিনা বলেছেন, “স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিরা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সর্বদা তৎপর রয়েছে। আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশ আমাদের দেশ। আমরা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি।”
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অন্যান্য সরকার ২৯ বছর ধরে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলেছে।” শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস জনগণ।আমাদের সমর্থনকারী সাধারণ মানুষই আমাদের ক্ষমতার সবচেয়ে বড় উৎস। তাই প্রতিটি নেতাকর্মীকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।”
বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটির নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। রবিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রথমে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।
পরে শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আ্ওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনা টানা দশম মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ওবায়দুল কাদের তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।