অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের ৩ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেতুলিয়ায়


শৈত্যপ্রবাহ
শৈত্যপ্রবাহ

বাংলাদেশের জেলা পঞ্চগড়,মৌলভীবাজার ও কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কয়েকদির অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (২ জানুয়ারি) সকালে ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেতুলিয়ায় ৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, ২৯ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, যখন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম হয় এবং তা কিছু সময় ধরে চলতে থাকে, তখন শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।বাংলাদেশের অনেক স্থানে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস-এর কাছাকাছি তাপমান বিরাজ করছে, সঙ্গে রয়েছে কুয়াশা। এ কারণে সংজ্ঞা মতে শৈতপ্রবাহ না থাকলেও ঐসব এলাকায় শীতের অনুভূতি তীব্র।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, “নদী অববাহিকা ও দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশের আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়া বার্তা অনুযায়ী, উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপটির ঘূর্ণাবর্ত প্রসারিত হয়েছে। এটি উপমহাদেশীয় উচ্চতার শৈলশিরা বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী নিম্নচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

পঞ্চগড়ে এক অঙ্কে নেমে এসেছে তাপমাত্রা। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গত তিনদিন ধরে এখানে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তাপমাত্রা নিচে নেমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতাও বাড়ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ জানান, “কুয়াশা কম হওয়ায়, উত্তরের হিমেল হাওয়া জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত হীম-হাওয়ায়, শীত অনুভূত হচ্ছে বেশি তীব্রতায়।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, বর্তমান যে আবহাওয়া বিরাজ করছে ফসলের উপকার হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা থাকছে। তারপর সূর্যের আলো থাকায় কোনো ফসলেরই ক্ষতি হচ্ছে না। সূর্যের আলো পাওয়ায় ফসলের উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত ৪০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে কম্বল ও সোয়েটার রয়েছে। বেসরকারি উদ্যোগে যে সব শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে সেগুলোও আমরা সমন্বয় করছি।

XS
SM
MD
LG