অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ভালো সম্পর্ক গড়তে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন


পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশ যেকোন দূরত্ব কমাতে গঠনমূলক ও অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও অনেক ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। সোমবার (৯ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ড. মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, “দুই দেশের মধ্যে আরও ভালো সম্পর্কের কিছু কারণ রয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ঘন ঘন সফর, সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, “আমরা খুবই খুশি যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বাড়ছে।” মোমেন বলেন, “বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার মতো একই মূল্যবোধ ও নীতিতে বিশ্বাস করে এবং অনুসরণ করে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংক্রান্ত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের কোথাও গ্যাপ বা দুর্বলতা থাকতে পারে। বন্ধু প্রতীম দেশটি যখন এই সম্পর্কিত সমস্যা গুলো উত্থাপন করে, আমরা তখন সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তারা এই আইনে কিছু দুর্বলতার কথা জানিয়েছিলেন, তবে ব্যাপকভাবে এটির সংশোধন করা হয়েছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তারা গঠনমূলক সম্পৃক্ততার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং সবসময় বলেছেন যে কারও কিছু বলার থাকলে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। আমরা খুব ইতিবাচক রয়েছি। যদি কিছুর অভাব থাকে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানাবে। আমরা সমাধান করব।”

আব্দুল মোমেন জানান, তার জানা মতে গত তিন বছরে জোরপূর্বক কোনো গুমের ঘটনা ঘটেনি। যেটিকে তিনি বড় উন্নতি হিসেবে মনে করেন। তিনি বলেন, “হাতের পাঁচটা আঙুল সমান নয়। কেউ কোনো সমস্যা সৃষ্টি করলে আমরা বিষয়টি দেখি।” কয়েক বছর ধরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে কোনো বাড়াবাড়ি করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আব্দুল মোমেন বলেন,“ এই এলিট বাহিনী বছরের পর বছর ধরে অনেক পরিপক্কতা তৈরি করেছে এবং তাদের অভ্যন্তরে জবাবদিহি ব্যবস্থা রয়েছে। তবে, আমরা কোথাও কোনো অন্যায় দেখতে চাই না।”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জেনারেল সিকিউরিটি অফ মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ) এবং অ্যাকুইজিশন ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (এসিএসএ); এই দুটি প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন বলেন, “আমাদের প্রধান ফোকাস জনগণের কল্যাণ। আর আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন রক্ষার জন্য নিরাপত্তা অপরিহার্য।” তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বহুমুখী সম্পর্ক বজায় রাখে এবং শান্তিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন, জলবায়ু সমস্যা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সমুদ্রসীমা আরও সুরক্ষিত রাখতে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের সহায়তা করেছে।” তিনি ঢাকার সঙ্গে তাদের স্থায়ী অংশীদারিত্বের স্বীকৃতি এবং গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে একটি অসাধারণ গল্প বলে অভিহিত করে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন।

হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরানের প্রমাণপত্র গ্রহণ করে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছিলেন, “আমি আশা করি আমাদের দেশগুলো গণতান্ত্রিক শাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, শরণার্থী এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে। আমরা আপনাদের সাফল্যে বিনিয়োগ করছি এবং সকল বাংলাদেশির স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ এবং তাদের দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষমতাকে সমর্থন করি।”

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ঘন ঘন সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন বলেন, “এটি একটি ভালো উন্নয়ন, দুই দেশের মধ্যে সম্পৃক্ততা বাড়ছে এবং এটি প্রতিফলিত করে যে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান সুযোগ রয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও র‌্যাব

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. আনোয়ার লতিফ খানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক এক ঘোষণায় বেনজীর আহমেদ এবং র‍্যাব ৭–এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দীন আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াইয়ে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত। এতে বলা হয়েছে যে, তারা আইনের শাসন, মানবাধিকারের মর্যাদা ও মৌলিক স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ক্ষুণ্ন করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। র‍্যাব হচ্ছে ২০০৪ সালে গঠিত একটি সম্মিলিত টাস্ক ফোর্স। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের কর্মকান্ড সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং সরকারের নির্দেশে তদন্ত পরিচালনা করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বা এনজিওদের অভিযোগ হচ্ছে যে, র‍্যাব ও বাংলাদেশের অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ২০০৯ সাল থেকে ৬০০ ব্যক্তির গুম হয়ে যাওয়া এবং ২০১৮ সাল থেকে বিচার বহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই সব ঘটনার শিকার হচ্ছে বিরোধী দলের সদস্য, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা।

XS
SM
MD
LG