অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিচারকের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২১ আইনজীবীকে হাইকোর্টে তলব


বাংলাদেশের হাইকোর্ট।

বিচার কাজ চলার সময়, জেলা জজের নামে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান প্রদান করে বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করাসহ মানহানির অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা আইনজীবী সমিতির ২১ সদস্যকে ২৩ জানুয়ারি তলব করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ স্বতঃপ্রণোদিত এই আদেশ দেন। তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। এর আগে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐ ঘটনায় বিচারক ও আদালতের কর্মচারীদের প্রতি অশালীন আচরণের অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সম্পাদক (প্রশাসন) সহ তিন আইনজীবীকে ১৭ জানুয়ারি তলব করেন হাইকোর্ট।

জানা যায়, ২ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ও আদালতের কর্মচারীদের গালিগালাজ এবং অশালীন আচরণের অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ অন্য আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর একটি চিঠি পাঠান বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ ফারুক।

এরপর বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল। পরে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠাতে নির্দেশ দেন। সেই ধারাবাহিকতায়, বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সম্পাদক(প্রশাসন) সহ তিন আইনজীবীকে আগামী ১৭ জানুয়ারি তলব করেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে এদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়।

এরপর ৯ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ শারমিন নিগার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে একটি চিঠি পাঠান। ঐ চিঠিতে বলা হয়েছে, এজলাস চলাকালে জেলা জজ সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।এরপর ২১ আইনজীবীর নাম সম্বলিত চিঠি প্রধান বিচারপতির অনুমতিক্রমে বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠানো হয়।এরপর শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার আদেশ দেন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ।

XS
SM
MD
LG