অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কেনিয়ার এলজিবিটিকিউ মানবাধিকার কর্মীর হত্যাকাণ্ডে ৫ সন্দেহভাজন আটক


কেনিয়ার এলজিবিটি মানবাধিকার কর্মী এডউইন ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ নাইরোবিতে এই সেলফিটি তোলেন। ফেসবুকের মাধ্যমে এই ছবিটি সংগ্রহ করেছে রয়টার্স।

কেনিয়ার একটি আদালত জানিয়েছে, বিশিষ্ট এলজিবিটিকিউ মানবাধিকার কর্মী এডউইন চিলোবার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৫ সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গত সপ্তাহে সড়কের পাশে একটি ধাতব ট্রাঙ্কে ঢোকানো অবস্থায় এডউইনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

কেনিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, তারা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ হিসেবে একটি সম্ভাব্য ত্রিভুজ প্রেমের ঘটনার তদন্ত করছে।

মানবাধিকার কর্মীরা সন্দেহ করছেন, এই হত্যাকাণ্ড কেনিয়ায় চলতে থাকা ধারাবাহিক ঘৃণা-জনিত অপরাধের অংশ। দেশটিতে সমকামিতা অবৈধ।

সোমবার এলডোরেটের আদালতে হাজির করা ৫ সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে জ্যাকটোন অধিয়ামবো অন্যতম। পেশায় ফ্রিল্যান্স চিত্রশিল্পী অধিয়ামবো কেনিয়ার এলজিবিটি সম্প্রদায়ের শীর্ষ মানবাধিকার কর্মী এডউইনের (২৫) দীর্ঘদিনের বন্ধু।

নিহতের দেহাবশেষ ফেলে দেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ আরও ৩ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করার এক দিন পর তাদের আদালতে হাজির করা হলো। এডউইনের পরিবার ভয়েস অফ আমেরিকাকে জানিয়েছে, তারা তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্ট এবং তারা ন্যায়বিচার চান।

এডউইনের চাচাতো ভাই ও পারিবারিক মুখপাত্র গদেনসিয়া চিরচির বলেন, “আমরা এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি অথবা আমাদের ভাইয়ের হত্যাকারীর বিরুদ্ধে কেনিয়ার প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযোগ গঠনের দাবি জানাই।”

এডউইনের মরদেহ রিফট ভ্যালির শহর এলডোরেট থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে আবিষ্কার করা হয়। অভিযোগ মতে, একটি চলন্ত গাড়ি থেকে মরদেহটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

এই হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত সংস্থার প্রধান ভোকার টার্ক ও আফ্রিকান ইউনিয়নের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার সলোমন আয়েলে দেরসো সহ বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে।

মানবাধিকার কর্মীরা জানান, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সদস্যদের লক্ষ্য করে আক্রমণ ও তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের ঘটনা বাড়ছে।

যুক্তরাজ্যের উপনিবেশ থাকাকালীন সময়ে প্রণীত আইন অনুযায়ী কেনিয়ায় সমকামিতা অবৈধ।

XS
SM
MD
LG