অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন নিয়ে প্রতিপক্ষদের সংঘাত; নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রস্তুত চেক প্রজাতন্ত্র


চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগের জাতীয় জাদুঘরে একটি রাজনৈতিক বিতর্ক শুরুর জন্য অপেক্ষা করছেন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী দানুসে নেরুডোভা (বামে), এবং পেট্র পাভেল৷ ৮ জানুয়ারী, ২০২৩।

শুক্রবার একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন চেক ভোটাররা। নির্বাচনে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ইউক্রেনের জন্য সামরিক সমর্থন এবং রাশিয়া ও চীনের সাথে সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি ব্যাপক প্রাধান্য পাবে।

তিনজন প্রার্থীর মধ্যে একজন আঁন্দ্রে ব্যাবিস। ধনকুবের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী সোমবার জালিয়াতির অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার পর, নতুন উৎসাহে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন।

ব্যাবিসকে ২০২২ সালে ছোট ছোট কোম্পানিগুলির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্য করে তোলার জন্য, তার বিশাল এগ্রোফার্ট হোল্ডিং কোম্পানি থেকে "স্টর্ক নেস্ট" খামারকে বের করে এনে ২০ লাখ ডলার নেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

তবে, ৬৮ বছর বয়সী ব্যাবিস তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগকে একটি "রাজনৈতিক প্রক্রিয়া" হিসাবে অভিহিত করেছেন।

সোমবার রায়ের পর তিনি সংবাদাতাদের বলেন, "আমি মনে করি, পুরো চেক প্রজাতন্ত্রের জন্য এবং চেক প্রজাতন্ত্রের সকল নাগরিকের জন্য এটি সুসংবাদ যে আমরা সত্যিকার অর্থে একটি আইনের শাসনে বাস করছি।"

ব্যাবিস ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাকে একজন জনতাবাদী এবং বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মিলোস জেমানের রাজনৈতিক সহযোগী হিসাবে দেখা হয়। ব্যাবিস অভিবাসন এবং ইউক্রেনের জন্য সমর্থনের মতো ইস্যুতে সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতির সমালোচনা করেছেন। এটি তাকে সমর্থন জুগিয়েছে - তবে তার সমালোচকদেরও উত্সাহিত করেছে।

ব্যাবিসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত চেক জেনারেল এবং নেটো সামরিক কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান পেত্র পাভেল। তার নির্বাচনী প্রচারণার স্লোগান হল, "শৃংখলা আনুন এবং শান্ত হোন।"

তৃতীয় নেতৃস্থানীয় প্রার্থী হলেন দানুশে নেরুদোভা। সাবেক এই অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর একটি প্রগতিশীল, ইউরোপ-পন্থী প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।

দেশটির প্রেসিডেন্টের নির্বাহী কোনও ক্ষমতা নেই; তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাবিসের বিজয় প্রধানমন্ত্রী পেত্র ফিয়ালার অধীনে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কঠিন করে তুলতে পারে, কারণ ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর তারা দৃঢ়ভাবে ইউক্রেনপন্থী অবস্থান নিয়েছে।

জার্মান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনের বিশ্লেষক বেঞ্জামিন ট্যালিস বলেন, "পেত্র পাভেল এবং দানুশে নেরুদোভা উভয়েই একটি উদার গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রতি অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

ট্যালিস ভিওএ-কে বলেছেন, “চেক প্রজাতন্ত্র ইতিহাস থেকে শিক্ষা পেয়েছে, এবং এ সম্পর্কে স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করেছে যে কীভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়, গণতন্ত্রের জন্য কী কী মূল্যবান, কীভাবে ইউক্রেনীয়রা স্বাধীনতা এবং অধিকারের জন্য লড়াই করছে এবং মৃত্যু বরণ করছে। এছাড়া, স্বাধীনতা আসলে কী এবং সেই প্রগতিশীল ভবিষ্যতের আশাই বা কোথায়?

শুক্রবারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে, দুই সপ্তাহ পর শীর্ষ দু’জন দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবেন।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস পত্রিকার মতে, সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, তিনজন প্রার্থীর প্রত্যেকের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ভোট রয়েছে, অন্যান্য ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে বাকি ভোটগুলি ভাগাভাগী হবে।

[ এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য এপি ও রয়টার্স থেকে নেয়া হয়েছে ] ।

XS
SM
MD
LG