অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কাবুলে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে পাঁচ আফগান নিহত, আহত ৪০


কাবুলের জানবাক স্কোয়ারে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের পর, ওই এলাকার একটি রাস্তা অবরোধ করে রাখে তালিবান নিরাপত্তা বাহিনী। ১১ জানুয়ারী, ২০২৩।

বুধবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে।

কাবুল শহরের পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন এবং আফগান বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে এটিকে "কাপুরুষোচিত কাজ" বলে অভিহিত করে, এর নিন্দা করেছেন।

কাবুলে একটি ইতালীয় ভিত্তিক দাতব্য জরুরি হাসপাতাল আহত অনেকের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।

দাতব্য সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টেফানো সোজা বলেছেন, “আমরা হাসপাতালে ৪০ জনেরও বেশি রোগী পেয়েছি; তবে চূড়ান্ত সংখ্যা ঠিক কত, তা বলা মুশকিল। আমরা এতে সাড়া দেওয়া অব্যাহত রাখছি।”

হামলাটি কোনও আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর কাজ, নাকি পুঁতে রাখা কোনো ডিভাইস দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তা জানাননি জাদরান। সহিংসতাটি একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকায় ঘটেছে, যেখানে বেশ কয়েকটি দূতাবাস এবং আফগান মন্ত্রক রয়েছে।

হামলার পরপরই এক লিখিত মন্তব্যে জাদরান ভিওএ-কে বলেছেন, "অপরাধীদের অবিলম্বে খুঁজে বের করা হবে এবং নাশকতামূলক কাজের জন্য তাদের যথোপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।"

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ভয়াবহ বেশ কিছু হামলার বিস্তৃতি অনুভব করেছে কাবুল। হামলাগুলোর বেশিরভাগই চালায় ইসলামিক স্টেট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আফগান সহযোগী, ইসলামিক স্টেট-খোরাসান।

সহিংসতাগুলোর মধ্যে রয়েছে, দেশটিতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে হত্যার প্রচেষ্টা এবং কাবুলের একটি হোটেলে বন্দুক ও বোমা হামলা, ওই হামলায় সেখানে অবস্থানরত পাঁচ চীনা নাগরিক আহত হয়। এছাড়া শহরের সামরিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, ওই হামলায় বেশ কয়েকজন তালিবান নিরাপত্তা বাহিনী নিহত হয়।

ইসলামপন্থী তালিবান গোষ্ঠী ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ দখল করে এবং তারপর থেকে তারা ইসলামিক স্টেট-খোরাসানের আস্তানাগুলির বিরুদ্ধে বারবার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে।

গত সপ্তাহে, তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছিলেন, তাদের বিশেষ বাহিনী আফগানিস্তানের রাজধানী এবং তার বাইরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১১ জন জঙ্গিকে হত্যা করেছে এবং সাতজনকে আটক করেছে।

মুজাহিদ এক বিবৃতিতে বিশদ ঘোষণায় বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশীও রয়েছে এবং তারা পাকিস্তানি কূটনীতিক, চীনা নাগরিক এবং সামরিক বিমানবন্দরে হামলায় ভূমিকা রেখেছিল। তবে তার এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

কোনো দেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে চীন, ইরান, পাকিস্তান, কাতার, রাশিয়া এবং তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ কাবুলে এখনো তাদের দূতাবাস খোলা রেখেছে। আফগানিস্তান থেকে তালিবানের দখলদারিত্ব এবং সমস্ত আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রত্যাহারের কয়েকদিন আগে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলি তাদের কূটনৈতিক মিশনগুলি কাতারের রাজধানী দোহাতে স্থানান্তরিত করে।

XS
SM
MD
LG