অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করুন—গ্লোবাল সাউথ সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কোভিড-১৯ মহামারি এবং নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সারা বিশ্বে বিপর্যয় সৃষ্টি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতাদের ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভয়েস অব গ্লোবাল সাউথ সামিট ২০২৩’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিকে বিবেচনায় রেখে একটি ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার সময় এসেছে’।

ভারত গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারগুলোকে একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্যে একত্রিত করতে ‘ইউনিটি অব ভয়েস, ইউনিটি অব পারপাস’ শীর্ষক দুই দিনের ভার্চুয়াল এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

প্রায় ১২০টি দেশকে এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজনের ফলাফল ভারতীয়দের জি২০–র সভাপতিত্বকে প্রভাবিত করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাউথ গ্লোবালের একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ “এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যত”- এই ধারণার অধীনে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য জি২০-এর সভাপতি হিসেবে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানায়’।

তিনি আরও বলেন, ‘আসুন আমরা একটি সুন্দর ভবিষ্যত ও উন্নত বিশ্বের জন্য একসঙ্গে কাজ করি’।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ মহামারি এবং নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক মন্দা, খাদ্য, জ্বালানি ও সারের সংকটের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বস্তরে সাহসী, দৃঢ় ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন’।

গ্লোবাল সাউথের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য জি২০ প্ল্যাটফর্মের সামনে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘প্রথমত, মানবতার বৃহত্তর সুবিধার জন্য বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, একটি নতুন দৃষ্টান্ত প্রয়োজন যা এসডিজির সমান্তরালে সামগ্রিকভাবে বৈষম্যকে মোকাবিলা করবে। তৃতীয়ত, স্বল্পোন্নত দেশ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বিশেষ অর্থায়নের প্রয়োজন পূরণ করতে হবে’।

শেখ হাসিনা তাঁর চতুর্থ প্রস্তাবে তিনি নারীসহ সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল ডিভাইডস’ সেতুবন্ধন রচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিনিয়োগ করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা নিন যার জন্য অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর সমর্থন অত্যাবশ্যক’।

পঞ্চম প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব মানুষের ভালোভাবে জীবনযাপনের সমান অধিকার থাকতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের দুর্ভাগ্যজনকভাবে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে ভুলবেন না’।

তার চূড়ান্ত প্রস্তাবে তিনি বৈশ্বিক মানব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাউথ-সাউথ ও ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে অংশীদার, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, থিঙ্ক-ট্যাংক ও অন্য স্টেকহোল্ডারদের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারত সরকারকে জি২০-এর সভাপতি দেশ হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে পরামর্শমূলক ব্যস্ততার মাধ্যমে জি২০ প্ল্যাটফর্মকে আরও অর্থবহ করার জন্য তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিকে আমি গভীরভাবে প্রশংসা করি’।

তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বাংলাদেশকে অতিথি দেশ হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের দিকে আলোকপাত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবার জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে দেশ দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি হিসেবে স্বীকৃত’।

XS
SM
MD
LG