অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরানে হিজাব আইন বাস্তবায়নে সম্ভবত চেহারা সনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার


বেইজিংয়ের ন্যাশনাল কনভেনশন-এ অনুষ্ঠিত গ্লোবাল মোবাইল ইন্টারনেট কনফারেন্স চলাকালীন চেহারা সনাক্তকরণ সফটওয়্যার এর একটি বিজ্ঞাপনের পাশে দাঁড়ানো দর্শনার্থীরা তাদের ফোন ব্যবহার করছেন, ২৭ এপ্রিল ২০১৮। ফাইল ফটো।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এক পত্রিকায় সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ইরান তাদের দেশের নারীদের হিজাব আইন মেনে চলা পর্যবেক্ষণ করতে খুব সম্ভবত চেহারা সনাক্তকরণ (ফেসিয়াল রেকগনিশন) প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

ওয়্যার্ড ম্যাগাজিন বলছে যে, যদিও অন্যান্য পদ্ধতিতেও মানুষজনকে সনাক্ত করা যায়, তবুও নারীদের বিরুদ্ধে ইরানের চেহারা সনাক্তকরণ প্রযুক্তির আপাত ব্যবহার “হয়ত এমন প্রথম ঘটনা যখন সরকার ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে নারীদের উপর পোশাক আইন চাপিয়ে দিতে চেহারা সনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে”।

ইরান গত বছরের শেষদিকে ঘোষণা দেয় যে, তারা তাদের দেশের নারীদের উপর নজরদারি করতে সনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার আরম্ভ করবে।

ওয়্যার্ড জানায় যে, নিজের হিজাব ঠিকভাবে না পরার জন্য এক তরুণী গ্রেফতার হয়ে মৃত্যুবরণ করার প্রতিক্রিয়ায় ইরানে বিক্ষোভ আরম্ভ হওয়ার পর থেকে, ইরানের নারীরা জানাচ্ছেন যে তারা বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করার এক বা দুইদিন পরই তাদেরকে হিজাব ঠিকভাবে না পরার জন্য গ্রেফতার করা হচ্ছে, যদিও বিক্ষোভ চলাকালীন তাদের পুলিশের সাথে কোন ধরণের কথাবার্তা হয়নি।

টিয়ান্ডি হচ্ছে চীনের একটি কোম্পানী, যেটি যুক্তরাষ্ট্রে কালোতালিকাভুক্ত। এই কোম্পানীটি খুব সম্ভবত ইরানকে চেহারা সনাক্তকরণ প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে। যদিও তারা বা ইরানের কর্মকর্তারা, কেউই ওয়্যার্ড এর করা মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

কোম্পানীটি অতীতে ইরান রেভোল্যুশনারী গার্ড কোর এবং ইরানের অন্যান্য পুলিশ ও সরকারি সংস্থাকে তাদের ক্রেতা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। টিয়ান্ডি তাদের ওয়েবসাইটে এও বলেছে যে, তাদের প্রযুক্তি চীনকে তাদের দেশের জাতিগোষ্ঠীগত সংখ্যালঘুদের সনাক্ত করতে সহায়তা করেছে, যাদের মধ্যে উইঘুররাও রয়েছেন।


XS
SM
MD
LG