অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিপ্লব বার্ষিকীতে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তিউনিশিয়ার হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ


২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদের বিরুদ্ধে তিউনিসিয়ায় বিক্ষোভকারীরা অংশ নেয়, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৩।

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদের ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে,শনিবার বিপ্লব বার্ষিকীতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী তার পদত্যাগের দাবিতে তিউনেসের শহরকেন্দ্রে বিক্ষোভ মিছিল করে। ২০১১ সালের বিপ্লবের একটি গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি বিপ্লব দিবস, যা তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক সাংবাদিক জানান, বড় বড় বিক্ষোভের ঐতিহ্যবাহী স্থান হাবিব বোরগুইবা অ্যাভিনিউতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী, "জনগণ এই শাসনের পতন দাবি করছে" স্লোগানের মধ্যে দিয়ে তিউনিসিয়ার পতাকা উত্তোলন করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বাইরে রাস্তায় পাশাপাশি জলকামানসহ প্রচুর পুলিশ উপস্থিত ছিল।

৩৪ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী আনোয়ার আলী বলেন, “তিউনিসিয়া তার ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাইদ সমস্ত কর্তৃত্ব নিজ হাতে নিয়ে গণতন্ত্রকে আঘাত করেছেন। অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে। আমরা চুপ করে থাকব না।“

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের ডাকা বেশ কয়েকটি সমান্তরাল বিক্ষোভ পৃথক রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাহ্য করে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ও ধাতব ব্যারিকেড অতিক্রম করে অ্যাভিনিউতে পৌঁছে যায়।

২০১১ সালের বিপ্লবে অংশ নেয়া চাইমা ইসা বলেন, “২০১১ সালের জানুয়ারিতে বোরগুইবায় ছিলাম আমরা, সেখানে সাইদ উপস্থিত ছিলেন না... আজ তিনি বোরগুইবাকে আমাদের জন্য বন্ধ করে দিচ্ছেন। মুল্য যাই হউক না কেন , সেখানে আমরা যাবই।”

বিপ্লব-পূর্ব স্বৈরতন্ত্রের সাথে জোটবদ্ধ আরেকটি প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল, কার্থেজে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে মিছিল নিষিদ্ধ হবার পরে তিউনিসের কেন্দ্রস্থলে একটি পৃথক সমাবেশ আয়োজন করে।

২০২১ সালে সাইয়েদ নির্বাচিত সংসদ বন্ধ করে দেন এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কার শুরু করেন। কিন্তু ডিসেম্বরে নতুন এবং অনেকটা ক্ষমতাহীন, আইনপ্রনেতাদের নির্বাচনে কম ভোটারের উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে যে, জনগণ তা মেনে নেয়নি।

সাইয়েদ একতরফাভাবে সরকারী বার্ষিকীর তারিখ পরিবর্তন করে বলেন, তিনি ১৪ ই জানুয়ারীকে বিপ্লব বিপথে যাওয়ার মুহূর্ত হিসাবে বিবেচনা করেন।

যদিও সাইয়েদের প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে কোনও বড় ধরনের দমন-পীড়ন চালানো হয়নি এবং পুলিশ তার বিরুদ্ধে বেশিরভাগ বিক্ষোভে বাধা দেয়নি। তবে গত বছরের ১৪ জানুয়ারির বিক্ষোভের সময়ে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা হয়। মানবাধিকার কর্মীরা এর নিন্দা করেছিলেন ।

XS
SM
MD
LG